খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার অভিযানে দুটি এক্সক্যাভেটর জব্দ
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযানে প্রশাসন দুটি এক্সক্যাভেটর জব্দ করেছে। আজ রোববার দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে প্রায় দুই শ ফুট উচ্চতার একটি পাহাড় কেটে সেখানে লেক তৈরি করা হচ্ছিল এবং মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল বিভিন্ন জায়গায়।
অভিযানের নেতৃত্বে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা তাহিরা এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়লাল চাকমা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান, এবং মানিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক তারেকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে আরও উদ্বেগজনক তথ্য
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরেই এলাকায় অন্তত আটটি বড় পাহাড় পুরো কেটে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় রাতের অন্ধকারে এমন তৎপরতা বেশি চলে। তবে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। খাড়িছড়া এলাকায় যে পাহাড় কাটা হচ্ছিল, তা মো. মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির দখলে ছিল। তিনি সেখানে মাছ চাষের জন্য একটি লেক তৈরি করছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা ভূঁইয়া বলেন, "পাহাড়টি খাসজমি। তবে খাস বা ব্যক্তিমালিকানাধীন—যা–ই হোক, পাহাড় কাটা যাবে না। সেখানে মাছের প্রকল্প হচ্ছিল বলে আমি শুনেছি।" এ বিষয়ে মনির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরা বলেন, "এলাকায় বেশ কয়েকটি পাহাড় কাটার আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুটি এক্সক্যাভেটর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিবেশগত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধস ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানানো হচ্ছে।



