বান্দরবানে হরিণ শিকারি চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার রান্না করা মাংস
বান্দরবানে হরিণ শিকারি চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

বান্দরবানে হরিণ শিকারি চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার রান্না করা মাংস

বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে হরিণ শিকার করে আসা একটি সক্রিয় চক্রের চার সদস্যকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের বাড়ি থেকে রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই অবৈধ কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

গ্রেপ্তার ও অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের তুলাতলি বাজার এলাকা থেকে এই চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন দিল মোহাম্মদ (৪৪), তার ছেলে আবু তাহের (১৮), মোহাম্মদ জোবায়ের (২৭) এবং সাইফুল ইসলাম (১৮)। তারা সবাই স্থানীয় সুয়ালক ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পরে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা বন্য প্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরিণ শিকার পদ্ধতি ও চক্রের কার্যক্রম

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারি চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিল। তারা কাইচতলি ও প্রান্তিক লেকসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ফাঁদ পেতে নিয়মিত হরিণ শিকার করত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার দিল মোহাম্মদ ও আবদুস সালামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রান্না করা হরিণের মাংস পাওয়া যায়, যা তাদের অপরাধের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়া (বিএমটিএ) সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় জনবসতি কম থাকায় সেখানে বনাঞ্চল গড়ে উঠেছে এবং হরিণের বিচরণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই সুযোগে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিকার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

বান্দরবান সদর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "শিকারিদের বিষয়ে আগে থেকেই আমাদের কাছে তথ্য ছিল, তবে প্রমাণের অভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সাম্প্রতিক অভিযানে আমরা চারজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং যেকোনো অবৈধ শিকার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সাফল্য স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।