বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা চতুর্থ স্থানে
বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শহরটির বায়ু মানের সূচক (একিউআই) ১৭১ রেকর্ড করা হয়, যা বায়ুকে 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিতে স্থান দিয়েছে। এই শ্রেণিবিভাগ গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে বলে বায়ু মানের সূচক নির্দেশ করে।
শীর্ষ তিনে ভারত, থাইল্যান্ড ও কঙ্গো
এই তালিকায় শীর্ষ তিনটি স্থান দখল করেছে ভারতের দিল্লি, থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কিনশাসা। দিল্লির একিউআই স্কোর ২২৮, চিয়াং মাইয়ের ২২০ এবং কিনশাসার ১৭১ রেকর্ড করা হয়েছে। এই শহরগুলো বায়ু দূষণের মাত্রায় ঢাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বায়ু মানের সূচকের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রভাব
বায়ু মানের সূচকের মাত্রা অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিটি স্তরই বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্য ঝুঁকি নির্দেশ করে, যেখানে উচ্চতর মাত্রা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
একিউআই দৈনিক বায়ুর গুণমান প্রতিবেদন করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে। বাংলাদেশে, এই সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর ভিত্তিতে গণনা করা হয়: কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। শহরটির বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই ঋতুগত পরিবর্তন শহরের দূষণ মাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি বায়ু দূষণকে একটি গুরুতর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকার বায়ু দূষণ সমস্যা কেবল স্থানীয় নয়, বরং এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং নির্মাণ কাজের প্রসার বায়ু দূষণকে আরও ত্বরান্বিত করছে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলার পরামর্শ দিচ্ছেন।



