প্যারিসে শুরু হলো বৈশ্বিক সম্মেলন ‘চেঞ্জ নাউ ২০২৬’, লক্ষাধিক অংশগ্রহণকারী
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রাঁ পালে ৩০ মার্চ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘চেঞ্জ নাউ ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত উদ্ভাবক, নীতি-নির্ধারক, উদ্যোক্তা ও তরুণ নেতাদের একত্রিত করেছে। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সামাজিক উদ্যোগ এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন সমাধান নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা।
সম্মেলনের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা
সম্মেলনটি ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রথম দুই দিন মূলত পেশাজীবী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সাধারণ দর্শকরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন ১ এপ্রিল দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং চার লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। এখানে ১০০০টিরও বেশি প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সামাজিক উদ্ভাবন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. যোহান রকস্ট্রোম, উমারউ ইব্রাহিম, রাজান খলিফা আল সুবেরাক, পল পলম্যান এবং লোভেল্ডা ভিনচেনজি। এছাড়াও বক্তৃতা দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানা ফিগারেস, কেৎ রাওয়ারথ, নারমোন্টে নেনকুইমো, লুইসা নিউবাউয়ার এবং লরেন্স টুবিয়ানা। তারা জলবায়ু নীতি, টেকসই অর্থনীতি এবং সামাজিক উদ্যোগ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও তরুণদের অংশগ্রহণ
সম্মেলনের প্রতিটি কর্নারজুড়ে সেমিনার, কর্মশালা, প্রদর্শনী এবং নেটওয়ার্কিং সেশন চলেছে। তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও নবীন উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি জাগাচ্ছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘চেঞ্জ নাউ’ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন, যেখানে বাস্তব পদক্ষেপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই ও ন্যায্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
গ্রাঁ পালের চিত্তাকর্ষক পরিবেশ ও উদ্ভাবনের মিলনমেলা
এছাড়া গ্রাঁ পালের ভেতরের দৃশ্য অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। আলো, প্রযুক্তি, মানুষের ব্যস্ততা এবং উদ্ভাবনের মিলনমেলা মঞ্চের প্রাণ জাগাচ্ছে। প্রতিটি প্রদর্শনী ঘর যেন একটি ছোট বিশ্ব, যেখানে দর্শকরা সরাসরি নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনের স্পন্দন অনুভব করছেন। এই সম্মেলনটি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সংলাপ এবং সহযোগিতা গড়ে উঠছে।



