সুন্দরবনে অন্তঃসত্ত্বা হরিণ উদ্ধার: বন বিভাগের অভিযানে ২৭টি ফাঁদ জব্দ
সুন্দরবনের গভীর বনাঞ্চলে একটি অন্তঃসত্ত্বা হরিণকে শিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেছেন বন বিভাগের কর্মীরা। গতকাল সোমবার নিয়মিত টহলের সময় হায়াতখালী টহল ফাঁড়ির দলটি এই হরিণটিকে আটকা পড়া অবস্থায় দেখে তা মুক্ত করে। এ সময় অভিযানে আরও ২৭টি ‘ছিটকে ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়েছে, যা শিকারিদের দ্বারা স্থাপন করা হয়েছিল।
টহল দলের সফল উদ্ধার অভিযান
হায়াতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিন্টু বাড়ৈ জানান, টহল থেকে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল এবং উদ্ধার করা হরিণটি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘কেয়াবুনিয়া খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে দিনভর টহলে আমরা ২৭টি ফাঁদ উদ্ধার করেছি। এলাকাটি উঁচু হওয়ায় জোয়ারে ডোবে না, ফলে হরিণের দল সেখানে আশ্রয় নেয়। নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে আমরা সেখানে অভিযান চালাই।’ তবে শিকারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্যারালাল লাইন সার্চিং পদ্ধতির সাফল্য
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান এই উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘প্যারালাল লাইন সার্চিং’ পদ্ধতিতে হেঁটে সহকর্মীরা অন্তঃসত্ত্বা হরিণটি উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় বনে ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে বন্য প্রাণী শিকার প্রতিরোধে সবার সচেতনতা জরুরি।
বন্য প্রাণী সংরক্ষণে চলমান প্রচেষ্টা
এই ঘটনা সুন্দরবনে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও নজরদারি এই ধরনের অপরাধ রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। উদ্ধারকৃত হরিণটি বনে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলে শিকারিদের ফাঁদ একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বন বিভাগের কর্মীরা এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, যাতে বন্য প্রাণীরা নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।
