বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২২৩
দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২২৩

বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান

বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা শনিবার সকালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ২২৩।

'খুব অস্বাস্থ্যকর' বায়ু, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

একিউআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু 'খুব অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিতে রয়েছে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য হুমকির ইঙ্গিত দেয়। এই মাত্রার বায়ু দূষণ শহরবাসীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শীর্ষ দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকা

একিউআই স্কোরের ভিত্তিতে তৈরি তালিকায় আফগানিস্তানের কাবুল প্রথম স্থানে রয়েছে ৩৪৩ স্কোর নিয়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (২২১) এবং ভারতের কলকাতা (২১৫)।

একিউআই স্কেলের ব্যাখ্যা

একিউআই স্কেল অনুসারে, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মাঝারি' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বায়ু মান নির্দেশ করে, তবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত। ১০১-১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১-২০০ 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১-৩০০ 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

একিউআই কীভাবে কাজ করে?

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদন করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে। বাংলাদেশে একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর ভিত্তিতে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এই ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন শহরের দূষণ চক্রের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুস ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। বিশ্বব্যাপী এই স্বাস্থ্য সংকটের মুখে ঢাকার বায়ু দূষণ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঢাকাবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। শহুরে উন্নয়ন, যানবাহনের নির্গমন, শিল্পকারখানার দূষণ এবং নির্মাণ কাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।