বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, বায়ু মান সূচকে ২৯৯ স্কোর
বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, বায়ু মান সূচকে ২৯৯

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান

বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা শুক্রবার সকালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শহরটির বায়ু মান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ২৯৯, যা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রেণিবিন্যাস গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বায়ু দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা

বায়ু মান সূচকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের লাহোর শহর প্রথম স্থান দখল করেছে ৩২০ একিউআই স্কোর নিয়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি ও কলকাতা, যাদের একিউআই স্কোর যথাক্রমে ২০৮ ও ১৯২। এই তালিকায় ঢাকার দ্বিতীয় স্থান অর্জন শহরের ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ সমস্যার চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বায়ু মান সূচকের শ্রেণিবিন্যাস ও স্বাস্থ্য প্রভাব

একিউআই স্কেল অনুসারে, ৫০ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে বায়ু 'মধ্যম' মানের হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে সাধারণভাবে বায়ুর মান গ্রহণযোগ্য হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত। ১০১-১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১-২০০ 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১-৩০০ 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদনকারী এই সূচকটি বাসিন্দাদের জানায় যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলি কী হতে পারে। বাংলাদেশে একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর ভিত্তিতে গণনা করা হয়: কণা পদার্থ (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন।

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এই ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন ঘটায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। ঢাকার মতো শহরে উচ্চ মাত্রার দূষণ সরাসরি জনস্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঢাকার মতো মহানগরীতে স্বাস্থ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে। নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং অন্যান্য উৎস থেকে সৃষ্ট দূষণ শহরের বায়ু মানের অবনতির জন্য দায়ী।