অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে ৫০০ মিটার গভীরে বিরল স্লিপার শার্কের আবিষ্কার
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ধারণ করা এক চমকপ্রদ ভিডিওতে অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে সূর্যের আলো পৌঁছায় না এমন এক গভীর অন্ধকার এলাকায় একটি বিরল প্রজাতির হাঙর সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। প্রায় ৪৯০ মিটার গভীরতায় বরফশীতল পানিতে এই বৃহদাকার ‘স্লিপার শার্ক’ ধীরে ধীরে সাঁতরে বেড়াচ্ছিল, যেখানে পানির তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য ধারণ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মাইন্দেরো-ইউডব্লিউএ ডিপ সি রিসার্চ সেন্টার, যারা বিশ্বের গভীর সমুদ্র অঞ্চলে প্রাণীজীবন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করে থাকে।
গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকের ব্যাখ্যা
গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক অ্যালান জেমিসন সিএনএনকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘সাধারণ ধারণা ছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফশীতল পানিতে হাঙর বসবাস করে না। তাই প্রায় তিন থেকে চার মিটার লম্বা একটি হাঙর দেখা সত্যিই অপ্রত্যাশিত ও চমকপ্রদ। এই ধরনের হাঙর দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে থাকতে পারে, কিন্তু পর্যাপ্ত ক্যামেরা ও প্রযুক্তির অভাবে আগে কখনও ধরা পড়েনি।’ ক্যামেরাটি বসানো হয়েছিল অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের কাছে দক্ষিণ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী এলাকায়, যা ৬০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের নিচে অবস্থিত এবং অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ সমুদ্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও হাঙরের বিস্তৃতি
এই আবিষ্কারের বিশেষ তাৎপর্য হলো যে, এত দক্ষিণে আগে কখনও হাঙর রেকর্ড করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে হাঙরদের চলাফেরার বিস্তৃতি ও অভ্যাস বদলে যেতে পারে। তবে এই প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চল নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। গবেষকদের ধারণা, এই স্লিপার শার্ক প্রায় ৫০০ মিটার গভীরতায় অবস্থান করছিল, কারণ ওই স্তরটি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি উষ্ণ। অ্যান্টার্কটিক সমুদ্রের পানি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়ে থাকে—ওপরে বরফগলা মিষ্টি পানি ও নিচের ঘন ঠান্ডা পানির কারণে এই স্তরগুলো তৈরি হয়।
হাঙরের বেঁচে থাকার রহস্য ও গবেষণার সীমাবদ্ধতা
বিজ্ঞানীদের অনুমান, এসব হাঙর সম্ভবত তলদেশে ডুবে যাওয়া তিমি, বিশাল স্কুইডসহ অন্যান্য প্রাণীর মৃতদেহ খেয়ে বেঁচে থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে বেশিরভাগ সমুদ্র গবেষণা হয় সেখানকার গ্রীষ্মকালে, অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। বছরের বাকি সময় সেখানে খুব কমই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাই এমন চমকপ্রদ আবিষ্কার হুট করেই আমাদের সামনে আসতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা। এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্ময়কর তথ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
