বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, বাতাসের মান 'খুব অস্বাস্থ্যকর'
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সপ্তাহের পঞ্চম দিন আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে বিশ্বের ১২৪টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজুয়ালের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান ২৬০ স্কোর রেকর্ড করেছে। এই মানকে বিশেষজ্ঞরা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকা
এ সময়ে বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার, যার স্কোর ৪৭৩। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২২৯। এরপরেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের কলকাতা এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় শহর। এই শহরগুলোর বায়ুদূষণের উচ্চ মাত্রা বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকটের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।
নির্মল বায়ুর শহরগুলোর অবস্থান
অন্যদিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আলজেরিয়ার আলজেরিস, যার বায়ুর স্কোর শূন্য। এরপরেই তালিকায় স্থান পেয়েছে কানাডার ভ্যানকুভার, নরওয়ের অসলো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এবং সুইডেনের স্টকহোম। এই শহরগুলোর বায়ুর মান ভালো থেকে মধ্যম পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে, যা পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার সাফল্য নির্দেশ করে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের শ্রেণীবিভাগ
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে হলে তা ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে মধ্যম মানের, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সতর্কতামূলক, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর বেশি হলে চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ঢাকার ২৬০ স্কোর এই মাপকাঠিতে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' ক্যাটাগরিতে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
বায়ুদূষণের বৈশ্বিক প্রভাব
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তথ্য অনুসারে, সারা বিশ্বে প্রতিবছর বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ঢাকার মতো শহরগুলোতে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য কার্যকর নীতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
