ট্রাম্প প্রশাসনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত: গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ নীতি বাতিল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ নীতি বাতিল করেছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর নিশ্চিত করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত নীতিগুলো বাতিল হয়ে যাবে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের যুক্তি: অর্থনৈতিক সুবিধা ও শিল্প রক্ষা
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, '২০০৯ সালের এই নীতি ওবামা-যুগের একটি বিপর্যয়কর পদক্ষেপ ছিল, যা মার্কিন গাড়ি শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভোক্তাদের জন্য দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।' তিনি আরও দাবি করেছেন যে এই চরম নীতি জলবায়ু এজেন্ডার জন্য আইনগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ইতিহাসের একটি বড় প্রতারণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে 'যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সরকারি নিয়ম শিথিল করার সবচেয়ে বড় ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার ফলে গাড়ির দাম কমবে এবং প্রস্তুতকারকরা গাড়িপ্রতি প্রায় ২,৪০০ ডলার পর্যন্ত খরচ বাঁচাতে পারবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ওবামা ও পরিবেশবিদদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, 'এই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে মার্কিন নাগরিকরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে, আমরা কম নিরাপদ ও কম সুস্থ থাকব, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হ্রাস পাবে। সবই জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পকে আরও লাভজনক করার জন্য করা হচ্ছে।' পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জলবায়ু নীতি প্রত্যাহার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবেশ প্রতিরক্ষা তহবিলের পিটার জালজাল সতর্ক করেছেন যে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে গাড়ির জ্বালানি খরচ প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যেতে পারে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে প্রায় ৫৮,০০০ অকালমৃত্যু এবং ৩৭ মিলিয়ন মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত হতে পারে।
আদালত চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যত প্রভাব
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রায় বাতিলের ফলে রাজ্য সরকার ও এনজিও সংস্থাগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একটি ফেডারেল বিচারক ইতিমধ্যে মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি বৈজ্ঞানিক প্যানেল আইনের লঙ্ঘন করেছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রভাব গাড়ি শিল্প, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়বে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করতে পারে এবং পরিবেশগত সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
