যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার টানার জন্য সড়কের পাশের গাছের মাথা ও ডালপালা কাটা হয়েছে। কোথাও গাছের মাথা, কোথাও মাঝখান থেকে, আবার কোথাও গোড়া থেকেই কেটে ফেলা হয়েছে। মেহগনি, কাঁঠাল, নিম, বট, শিমুল, বাবলা, রেইনট্রি, বেল, খেজুর ও শিশুসহ নানা প্রজাতির গাছ এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কের দুই পাশের শতাধিক গাছের ওপর যেন ঝড় বয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের সময় বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গাছগুলো নির্বিচার কেটেছে। ইন্দ্রা গ্রামের আলাউদ্দিন মোল্যা (৬৫) নামে এক ভ্যানচালক বলেন, 'বিদ্যুতের তার টানতে গাছের মাথা, গোড়া ও মাঝ অংশ থেকে কাটা হয়েছে। আগে ছায়া পড়ত, কিন্তু এখন পুরো রাস্তা রোদে খাঁ খাঁ করছে।'
পল্লী বিদ্যুতের ব্যাখ্যা
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, পুনিয়ার বটতলা এলাকায় একটি উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য সড়কের পাশেই খুঁটি বসানো হয় এবং তার টানতে গিয়ে প্রায় ২০০ গাছের মাথা, ডালপালা ও কিছু ক্ষেত্রে গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক সোহানুর রহমান দাবি করেন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, তাই গাছ কাটার দায় তাদের নয়।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বক্তব্য
যশোর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠু কুমার বলেন, 'ঠিকাদারকে সীমিত পরিসরে ডাল কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গাছের মাথা বা পুরো গাছ কাটার অনুমতি ছিল না। এমন কিছু হয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।'
বন বিভাগের অবস্থান
উপজেলা বন বিভাগ জানায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সড়কের দুই পাশে লাগানো এসব গাছ এখন বড় হয়েছে। সাম্প্রতিক কাটাকাটিতে গাছগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবদুল কুদ্দুস বলেন, 'গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের আগে জানানো হয়নি। পরে জানতে পেরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা তাড়াহুড়ার কারণে জানানো হয়নি বলে জবাব দিয়েছেন।'
এলজিইডির মতামত
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, খুঁটিগুলো সড়ক থেকে অন্তত পাঁচ ফুট দূরে স্থাপন করা হলে গাছের এমন ক্ষতি হতো না। বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সুফিয়ান বলেন, 'সড়ক ঘেঁষে খুঁটি বসানোই সমস্যার মূল কারণ। কিছুটা দূরে বসানো হলে গাছও বাঁচত, সড়ক ব্যবহারের সুবিধাও বাড়ত।'



