পরিবেশ রক্ষায় কঠিন যুদ্ধের আহ্বান মুনীর চৌধুরীর
পরিবেশ রক্ষায় কঠিন যুদ্ধের আহ্বান মুনীর চৌধুরীর

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

দূষণের ক্ষত অনিরাময়যোগ্য

দুই বছরেরও বেশি সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লেখেন, ‘দূষণের ক্ষত অনিরাময়যোগ্য হয়ে দেশের প্রতিটি সেক্টরের উৎপাদনশীলতা ধ্বংস করছে। শত শত কারখানায় ইটিপি নেই, ইটিপি বন্ধ। টনে টনে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে, খালে, কৃষিজমিতে। অথচ পরিবেশ আইনের ৭ ধারার প্রয়োগ কখনো হয়নি।’

বহুমাত্রিক কৌশলে অভিযান

তিনি জানান, এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে তিনি বহুমাত্রিক কৌশলে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। একদিকে ছিল কোটি কোটি টাকা জরিমানা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দূষণকারী প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক ঋণে নিষেধাজ্ঞা এবং ইটিপি নির্মাণে কারিগরি পরামর্শ প্রদান, অন্য দিকে ছিল দূষণের অপরাধে মানুষ, অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পরিণতিতে প্রকৃতির বিচারের বাণী শুনিয়ে মূ্ল্যবোধের জাগরণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সাফল্য

তিনি বলেন, ‘দূষণকারীদের হুমকি, জীবনের ঝুঁকি এবং ভয়ংকর রাজনৈতিক চাপের মুখেও আমরা বহু কারখানাকে ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনায় বাধ্য করেছিলাম। পরবর্তীতে বহু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট ও গ্রিন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল।’

ইটভাটা উচ্ছেদ ও আধুনিক প্রযুক্তি

তিনি আরও জানান, ১১০০টি মারাত্মক কার্বন নিঃসরণকারী ইটভাটা উচ্ছেদ করে হাইব্রিড-হফম্যান ও ভার্টিকাল শ্যাফট পদ্ধতির আধুনিক প্রযুক্তির সূচনা করা হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট চাপে তাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশ রক্ষার নামে যা হচ্ছে তার সমালোচনা

এখন পরিবেশ রক্ষার নামে যা হচ্ছে তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘পরিবেশকেন্দ্রিক বিদেশ সফরের প্রতিযোগিতা এবং ওয়ার্কশপে মুখরোচক বক্তৃতা, শত শত গবেষণা ও প্রকাশনা… কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রটি অর্থাৎ এনফোর্সমেন্ট ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত।’

সরকারের প্রতি আহ্বান

সরকারের প্রতি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী এনফোর্সমেন্ট অভিযান শুরু করা হোক। পরিবেশ-বান্ধব যুগোপযোগী পলিসি প্রণীত হোক। দূষণনিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রপাতির আমদানী শুল্ক কমানো হোক এবং পরিবেশ আইন মান্যকারী শিল্পকারখানাগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হোক, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান করা হোক।’

প্রযুক্তির ব্যবহার ও দুর্নীতি মোকাবিলা

প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক সফটওয়্যার ও আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা সকল কারখানার বর্জ্য পরিশোধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি সতর্কও করেন, ‘যতই আইন-নীতি যুগোপযোগীকরণ বা আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হোক না কেন, দূষণকেন্দ্রিক দুর্নীতির ছিদ্রপথ বের হয়ে যাবে— আমাদের সততার কত অভাব, তা তো পরীক্ষিত।’

দেশবাসীর প্রত্যাশা

দেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দূষণমুক্ত জীবন প্রত্যাশী। গভীর বেদনা নিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে অভিযোজিত হয়েছে দূষণে আবৃত জীবনে। পরিবেশ নিয়ে সভা-সেমিনারের বাহুল্য, বিদেশ ভ্রমণের প্রতিযোগিতা, আপ্যায়ন ও সম্মানির সংস্কৃতি কমাতে হবে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে অত্যন্ত সততা, সাহসিকতা, শুদ্ধতা ও সফলতার সাথে।’