গত জুন মাস শেষে দেশের পয়েন্ট টু পয়েন্ট সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.১৬%, যা মে মাসে ছিল ৯.৪২%। একই সময়ে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.৬৮% হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
খাদ্য ও অখাদ্যে মূল্যস্ফীতির হ্রাস
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬০% হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯.০৬%। একই সময়ে অখাদ্য মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯.৬১% হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯.৭১%।
বার্ষিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে
তবে মাসিক মূল্যস্ফীতি কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও বেশি। ২০২৫ সালের জুনে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৮%, যা এক বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে ৯.১৬% হয়েছে। একইভাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৯%, যা চলতি বছরের জুনে বেড়ে ৮.৬০% হয়েছে। এছাড়া অখাদ্য মূল্যস্ফীতি গত বছরের ৯.৩৭% থেকে বেড়ে বর্তমানে ৯.৬১% হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় ইতিবাচক পরিবর্তন
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিবিএসের গণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৬৮%। আগের বছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন) এই হার ছিল ১০.০৩%। অর্থাৎ এক বছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ১.৩৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতামত
অর্থনীতিবিদদের মতে, মাসিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও মূল্যস্ফীতির হার এখনও ৯% এর উপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে না আসায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতিকে আরও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাজার তদারকি বাড়ানো, কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বজায় রাখা প্রয়োজন।



