বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান: ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও করের আওতা সম্প্রসারণ জরুরি
বাণিজ্যমন্ত্রী: ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও করের আওতা বাড়ান

বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান: ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও করের আওতা সম্প্রসারণ জরুরি

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করা এবং করের আওতা সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই বাস্তবতায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল রাখতে কার্যকর ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অতীতের প্রকল্প ও ঋণের চাপ

বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের কিছু বড় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই কিছু বড় প্রকল্প গ্রহণের ফলে দেশের ঋণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, বিদ্যমান ঋণ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণে আরও সতর্ক হতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

করের আওতা সম্প্রসারণের গুরুত্ব

কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো সন্তোষজনক নয় এবং এই অবস্থা উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হবে

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে দেশের একটি বড় অর্থনৈতিক অংশ এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে, যা রাজস্ব আহরণে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই ধারায় এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা, যারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

সেমিনারটি ‘ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক ছিল এবং এটি রোববার (৫ এপ্রিল) পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।