জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত, পুঁজিবাজারে বড় পরিবর্তনের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্য নিয়ে সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থনীতির ওপর চাপ ও সরকারের পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চমূল্যে তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে সরকারি তহবিলের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন চললে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রভাব পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, কারণ দেশের অধিকাংশ তেল-গ্যাস ওই অঞ্চল থেকে আসে।
তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। সারা বিশ্ব থেকে তেল-গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। ঈদের সময় যাতায়াত ও মিল-ফ্যাক্টরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রতিশ্রুতির প্রভাব
অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে দেন, বর্তমান হারে জ্বালানি কিনতে থাকলে দেশের বাজেট, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষকে দেওয়া সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির ওপর এই সংকটের প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়বে, কারণ তেলের দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে।
তিনি বলেন, "দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে আমাদের হয়তো দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।"
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পুঁজিবাজারের সংস্কার
জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, তাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তবু এ ক্ষেত্রে বিকল্প নেই, কারণ জ্বালানি নিরাপত্তায় আপস করলে মিল-ফ্যাক্টরি, দৈনন্দিন জীবন, উৎপাদনব্যবস্থা ও কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন, "পুঁজিবাজারের সমস্যা সম্পর্কে আপনারা শিগগিরই শুনতে পাবেন; সেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের জন্য এত দিন ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা ব্যাংকিং খাতে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। সরকার চায়, বড় বিনিয়োগগুলো পুঁজিবাজার থেকে আসুক, যা বিনিয়োগকারী ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তিদায়ক হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ ও আশাবাদ
এই বক্তব্য চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়, যেখানে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। ইয়ং ওয়ান-সিআইইউ একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিআইইউর উপাচার্য এম এম নুরুল আবসার, ইয়ংওয়ান করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিহাক সুং, কেইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থার চাপের কথা স্বীকার করে বলেন, সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে এবং কমবেশি সব দেশই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জন্য আশার কথা হলো, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে, গার্মেন্টস খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সহনশীলতার মাধ্যমে এই সাময়িক অর্থনৈতিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



