ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত, দারিদ্র্য কমাবে ১.২৩ কোটি মানুষ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড, যা এখন বাস্তবে রূপ পাচ্ছে।
কর্মসূচির বিস্তারিত ও লক্ষ্য
সরকার ইতিমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছে, যারা মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ২৬ লাখ ৪৭ হাজার পরিবারের জন্য ৭,৯৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে মোট ৩০,০০০ টাকা প্রদান করা হবে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আসবে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচির বরাদ্দ একীভূত করে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় না হয়।
সমন্বিত পদ্ধতি ও সুবিধা
সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতের টিআর, কাবিখা, মানবিক সহায়তার মতো প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ একীভূত করছে। এর ফলে:
- আগামী অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ পরিবার নিয়মিত ভাতার আওতায় আসবে।
- সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।
- দারিদ্র্যতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
- বরাদ্দকৃত অর্থ সংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বিতরণ সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে. মুজেরির মতে, সরাসরি নগদ সহায়তা ব্যবস্থা স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হবে।
গবেষণা ও প্রভাব
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) গবেষণা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে:
- ১.২৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে।
- অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৬ লাখ কমবে।
- ১.৫৬ কোটি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে।
- সার্বিক দারিদ্র্য ১৮.৭% থেকে ১১.৩% এ নেমে আসবে।
- অতি দারিদ্র্য ৫.৬% থেকে ২.২% হবে।
নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এই পরিকল্পনার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে, যা প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে।
অর্থ বিভাগের ত্রিপক্ষীয় সভার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ একীভূত করে একটি বড়, দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ কর্মসূচিতে রূপান্তর করা জরুরি। এই পদক্ষেপ দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



