এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি: প্রথম আট মাসে ৪,২২৬ কোটি টাকা কম খরচ
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি: ৪,২২৬ কোটি টাকা কম খরচ

এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি: প্রথম আট মাসে ৪,২২৬ কোটি টাকা কম খরচ

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রথম আট মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম খরচ হয়েছে। ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা কম ব্যয় করা হয়েছে, যা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে একটি ধীরগতির চিত্র তুলে ধরছে।

বাস্তবায়নের হার ও খরচের পরিসংখ্যান

জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আট মাসে মোট ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) আজ বুধবার তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। প্রথম আট মাসের এই বাস্তবায়ন হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তবায়নে বাধার কারণসমূহ

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাব একটি প্রধান সমস্যা। এছাড়াও, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকল্প যাচাই-বাছাই এবং টাকা খরচে কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণের ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়েছে।

খরচ না করা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

অর্থবছরের আট মাস পেরিয়ে গেলেও পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দের ১০ শতাংশও খরচ করতে পারেনি।

  • সংসদবিষয়ক সচিবালয়: ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি, বাস্তবায়ন হার শূন্য।
  • আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ
  • অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)
  • জননিরাপত্তা বিভাগ
  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

এই বিভাগগুলোর ধীরগতি সামগ্রিক এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকারের উচিত প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর মাধ্যমে এই ধীরগতি কাটিয়ে উঠার পদক্ষেপ নেওয়া। আইএমইডির নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।