ফ্যামিলি কার্ডে তিন শ্রেণির নাগরিক অগ্রাধিকার, ১০ মার্চ ১৪ জেলায় উদ্বোধন
ফ্যামিলি কার্ডে তিন শ্রেণির অগ্রাধিকার, ১০ মার্চ উদ্বোধন

ফ্যামিলি কার্ডে তিন শ্রেণির নাগরিক পাবেন অগ্রাধিকার, ১০ মার্চ ১৪ জেলায় উদ্বোধন

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তিনটি বিশেষ শ্রেণির নাগরিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্ড পাবেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যা একটি ইউনিভার্সাল কার্ড হিসেবে কাজ করবে।

কার্ড বিতরণের সময়সীমা ও উদ্বোধনী পরিকল্পনা

আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি জেলায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির মানুষ প্রথম পর্যায়ে কার্ড পাবেন। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নাগরিকরাও কার্ডের আওতায় আসবেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চার বছরের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংকিং সুবিধা

উপকারভোগীদের সমস্ত তথ্য একটি বিশেষ সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সুবিধাভোগীরা তাদের পছন্দের যে কোনো ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন, যা নমনীয়তা বাড়াবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ম্যানুয়ালি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য অফলাইন ও অনলাইন—দুইভাবেই জমা দেওয়া যাবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই, যা দুর্নীতি রোধে সহায়ক হবে।

প্রতারণার বিরুদ্ধে সতর্কতা

মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করে জানান, কড়াইল বস্তি ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা জনগণের আস্থা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ব্যাপক সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুবিধা বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো বয়ে আনছে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে।