রাজস্ব ঘাটতিতে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে বাধ্য
রাজস্ব ঘাটতিতে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ

রাজস্ব ঘাটতিতে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে বাধ্য

প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে চলতি ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা এসডিজি বাস্তবায়নে সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। সংস্থাটির মতে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সরকার পরিচালন ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হলো।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অর্থনৈতিক পর্যালোচনা

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বিস্তারিত জানান, ২০২৫ অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। বিপরীতে রাজস্ব আয় এসেছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি পূরণে ২৩ হাজার কোটির বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের কিছু বকেয়া পরিশোধের চাপও বর্তমান সরকারের ওপর পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না গেলে সামনের দিনে অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের সতর্কতা

সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের মতে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না গেলে সামনের দিনে অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই ধরনের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এছাড়াও, গবেষণা সংস্থাটি রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে দুর্বলতা কাটাতে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছে। তারা মনে করে, সরকারের উচিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।