বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন: বাজুসের নতুন মূল্য নির্ধারণ
স্বর্ণের দামে বড় পতন, বাজুসের নতুন মূল্য

বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন: বাজুসের নতুন মূল্য নির্ধারণ

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন স্বর্ণের দামের বিবরণ

বাজুসের নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। এটি আগের দামের তুলনায় ৩,২৬৬ টাকা কম। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দামগুলো হলো:

  • ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি: ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভ্যাট ও মজুরি সংক্রান্ত নির্দেশনা

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী দাম ও সমন্বয়ের ইতিহাস

এর আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। সে সময় দাম ২,২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফা কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

রুপার দামের অবস্থা

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দামগুলো হলো:

  1. ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ৬ হাজার ৬৫ টাকা
  2. ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ৫ হাজার ১৯০ টাকা
  3. সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি: ৩ হাজার ৯০৭ টাকা

চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম ১০ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৭ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও দাম সমন্বয় হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।