এলপি গ্যাসে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস: ভোক্তাদের ওপর ২০% মূসকভার কমবে
এলপি গ্যাসে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস, ভোক্তাদের সুবিধা

এলপি গ্যাসে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস: ভোক্তাদের ওপর ২০% মূসকভার কমবে

শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে বহুল ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের (এলপিজি) ওপর কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে সরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যটির দাম ধরে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কর কাঠামোর পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলো

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপণে বলা হয়, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানি পর্যায়ে পূর্বের দুই শতাংশ আগাম করও তুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে, নতুন ব্যবস্থায় আমদানি পর্যায়ে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে যে মূল্য সংযোজন হয়, তার ওপর আর কোনও ভ্যাট কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ, করের ভার এককভাবে আমদানি পর্যায়ে নির্ধারিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলের পরবর্তী ধাপে অতিরিক্ত ভ্যাটের চাপ থাকবে না।

সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রত্যাশিত প্রভাব

এনবিআর বলছে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর কাঠামোর এ পরিবর্তনের ফলে এলপি গ্যাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ভোক্তাদের ওপর প্রায় ২০ শতাংশ মূসকভার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে এলপিজির বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সরাসরি উপকৃত হবেন সাধারণ ভোক্তারা।

এছাড়াও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও ভোক্তা সুরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। এলপি গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে শিল্প ও গৃহস্থালি উভয় খাতেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।