চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা আসন্ন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের হার ১০% এর নিচে না নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি, তাই নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
মুদ্রানীতি পরামর্শ সভা
রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি পরামর্শ সভায় অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা আগামী জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য মুদ্রানীতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় অর্থনীতিবিদরা বলেন, দেশে এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিদ্যমান। এই পরিস্থিতিতে নীতি সুদের হার কমানো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মতামত
তাই তারা মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় না আসা পর্যন্ত নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে। তারা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ মুদ্রানীতি শিথিল না করার পরামর্শ দেন।
উদ্দীপনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ওপর জোর
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার উদ্দীপনা প্যাকেজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সঠিক নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তহবিল বিতরণের আহ্বান জানানো হয়, যাতে অতীতের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।
মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা
অর্থনীতিবিদরা বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নীতি সুদের হারের প্রভাব সীমিত থাকবে। এছাড়া বাজার তদারকি আরও জোরদার না করা হলে উচ্চ সুদের হারও কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হতে পারে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
সভায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা বজায় রাখার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার
গভর্নর জানান, ব্যাংকিং রেজোলিউশন আইন অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একীভূত ব্যাংকগুলোর জন্য দ্রুত চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা বাজার নিয়ে আলোচনা
সভায় বৈদেশিক মুদ্রা বাজার নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও ভবিষ্যতে এটি স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও আমদানি বাড়লে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।



