বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া এলাকায় বাঁশ ও কাপড়ের তৈরি মাচায় এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শনিবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী বাঁশের মাচায় শুইয়ে পাহাড়ি পথে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন একজন প্রসববেদনায় কাতর নারীকে।

দুর্গম পথে আড়াই ঘণ্টার যাত্রা

ভিডিওটি আজ সকালে ধারণ করা হয়। ওই গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসূতি জেসিকা চাকমাকে (১৯) জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তাঁর স্বাভাবিক প্রসব হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নবজাতক ও মা উভয়ই সুস্থ আছেন।

ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য

ভিডিওতে সুমন জ্যোতি চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে বাস করি। আজ একজন ডেলিভারি রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, এখানে রাস্তাই নেই। বাঁশের দোলায় করেই রোগীকে নিতে হচ্ছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেসিকা চাকমার স্বামীর বিবরণ

জেসিকা চাকমা ওই এলাকার সুমন চাকমার স্ত্রী। আজ এ দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছে। সুমন চাকমা জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রীর প্রসবব্যথা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে প্রসবের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সকাল সাতটায় স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হন। সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তাঁর স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রসব হয়।

যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা

আইমাছড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শুভ মালা চাকমা বলেন, ভরতপাড়াসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বেহাল। এ কারণে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে অবস্থার আরও অবনতি হয়। জরুরি রোগী, প্রসূতি মা এমনকি মৃতদেহও অনেক সময় বাঁশের মাচা বা দোলায় বহন করতে হয়। কৃষিপণ্য আনা–নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অন্যান্য চাকমা জানান, আজ সকালে আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া থেকে প্রসূতিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই স্বাভাবিক প্রসব হয়। মা ও নবজাত মেয়েশিশু দুজনই এখন সুস্থ।