পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীর সৃষ্টিশীলতায় বাধা: তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, নারী সমাজ প্রকৃতিগতভাবেই সৃষ্টিশীল এবং প্রজন্মের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা অনন্য। কিন্তু সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মনোজগতের কারণে নারীদের স্বাভাবিক প্রতিভা ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সুযোগ অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হয়।
বিশ্ব নারী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বিজনেস আমেরিকা ও অর্থকণ্ঠের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব নারী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের বিদ্যমান অসাম্য ও দ্ব্যর্থতা তুলে ধরার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বিশেষভাবে আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল উদ্যোক্তাকে ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রী বলেন, মাতৃত্বের বন্ধন ও আবেগ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সেই নারীসমাজের মধ্য থেকে যারা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের স্বীকৃতি প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা আরও শক্তিশালী হবে।
নারীদের অনুভূতি সরকারে পৌঁছানোর আশ্বাস
মন্ত্রী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারীদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, একজন নারী নেত্রী হিসেবে তিনি নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফলতার উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
জহির উদ্দিন স্বপন সামাজিক বাধা ও নেতিবাচক মানসিকতার কাছে নতি স্বীকার না করে নিজেদের স্বাভাবিক সৃষ্টিশীল শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য নারীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীদের সৃষ্টিশীলতা ও উদ্যোগশীলতা সমাজের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য, এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে তাদের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সফল নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা নারীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যা বর্তমান সমাজে একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। বিশ্ব নারী সম্মেলনের মতো আয়োজন নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে, যা তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।



