শহীদ শাফী ইমাম রুমীর ৭৫তম জন্মবার্ষিকীতে ডোমারে বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ শাফী ইমাম রুমীর (বীর বিক্রম) ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। রোববার ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শহীদ রুমীর জীবন ও বীরত্বের স্মরণ
শহীদ শাফী ইমাম রুমী ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় এবং এর পর তাঁর আর কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁর বাবা শরীফ ইমাম ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত কর্মসূচি
সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সভাপতিত্ব করেন সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কবি সালেম সুলেরী। উদ্বোধন করেন ডোমার উপজেলা মুক্তিযাদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার।
শহীদ রুমীর বীরত্বগাঁথা জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদার রহমান, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস হোসেন, শমসের আলী, মো. রবিউল ইসলাম, জসিয়ার রহমান, কানাডাপ্রবাসী সংস্কৃতিসেবী শেরিনা শরিফ, সাংবাদিক তাহমিন হক, মীর মাহমুদুল হাসান এবং আনোয়ারুল আলম প্রধান প্রমুখ।
নামকরণের দাবি ও সম্মাননা প্রদান
সভায় ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত শাফী ইমাম রুমীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তাঁর নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়। এরপর ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে শহীদ রুমী (বীর বিক্রম) সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের স্মরণে উৎসর্গিত ছিল।
এই অনুষ্ঠানটি শহীদ রুমীর স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শহীদদের স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।



