নারী নেতৃত্বের জোরালো দাবি: নতুন সরকারে তিন মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব নারীদের হাতে চাই
নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে নতুন সরকারের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব নারীদের ওপর অর্পণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় তারা নারীদের ভোটে নির্বাচনে জিততে চাইলেও তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে চায় না।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আলোচনা সভা
রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর উদ্যোগে ‘নতুন সরকার, পুরুষতন্ত্র ও নারী অধিকারের লড়াই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাইফুল হক তার বক্তব্যে আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও সমাজে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়েছে। তার মতে, নারীরা বর্তমানে আরও বেশি অনিরাপদ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বকেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মেনে নিতে চায় না।
নারীর বিরুদ্ধে অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ
সাইফুল হক শুধু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই চাননি, বরং নারীর অধিকার ও মর্যাদাবিরোধী সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। তার এই দাবি নারী অধিকার আন্দোলনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতির বক্তব্য
শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। বহ্নিশিখা জামালী তার বক্তব্যে নারীদের দ্বিবিধ নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতা ও শ্রেণি শোষণ—এই দুই ধরনের নিপীড়নেরই শিকার।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে এখনও অনেকেই নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা নারীর গুণ ও রূপের প্রশংসা করলেও সমান অধিকার দিতে চান না। তার মতে, স্বাধীন নারীকে এখনও সমাজ ভয় পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়।
নারী নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান
বহ্নিশিখা জামালী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন: গত এক বছরে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্যাতিত নারী দরিদ্র হলে বাস্তবে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এখনও সমান কাজে নারীরা সমান মজুরি পান না এবং সম্পত্তির ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য তিনি নারী বিদ্বেষী সব তৎপরতা আইন করে বন্ধ করার দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন:
- সংগঠনের সহসভাপতি রাশিদা বেগম
- নারী নেত্রী তাসলিমা চৌধুরী রীতা
- নার্গিস আক্তার লিমা
- সোনিয়া আক্তার
- সাবিনা রহমত
- শাকিলা আক্তার শান্তা
- আলেয়া বেগম
- নূর বানু
- মরিয়ম বেগম
- হাওয়া বেগম
- শিউলী আক্তার
সংহতি বক্তব্য ও সামগ্রিক বার্তা
সভায় সংহতি বক্তব্য দেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলী। সকল বক্তাই একমত পোষণ করেন যে, অধিকার আদায়ে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠিত হতে হবে।
তাদের মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট: নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে সমাজের সার্বিক অগ্রগতি কখনই সম্ভব নয়। এই আলোচনা সভা নারী অধিকার আন্দোলনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে উপস্থিতরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



