রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: নারীদের বাদ দিয়ে জাতীয় অগ্রগতি অসম্ভব, পুরস্কার পেলেন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ জন
নারীদের বাদ দিয়ে অগ্রগতি অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি, পুরস্কার পেলেন খালেদা জিয়াসহ ৬ জন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের জোরালো বক্তব্য: নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি অসম্ভব

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি অংশ নারী। তাই তাদেরকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারার বাইরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি অর্জন করা কখনোই সম্ভব নয়। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময়।

অনুষ্ঠানের বিস্তারিত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজ জিনাত আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল পুরস্কার বিতরণী পর্ব, যেখানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট ছয় জন নারীকে 'শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার' তুলে দেন।

কবি নজরুলের কবিতার উদ্ধৃতি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতার পঙ্কতি উদ্ধৃত করে বলেন, "বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, বেগম খালেদা জিয়া এই দফতরকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত করেন এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্থাপিত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী রূপ দেন। তিনি মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন এবং মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, নারী শিক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইভাবে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, যা আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে নারীদের সমৃদ্ধি আরও এগিয়ে যাবে।

'শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার' প্রাপ্তদের তালিকা

এবারের পুরস্কার বিতরণীতে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও আরও পাঁচ জন নারীকে 'শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার' প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকা নিম্নরূপ:

  • অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে: নুরুন নাহার আক্তার
  • শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী: মোছা. ববিতা খাতুন
  • সফল জননী নারী: নুরবানু কবীর
  • নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী: মোছা. শমলা বেগম
  • সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী: মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন

এই পুরস্কারগুলো নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।