ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: মহিলা পরিষদের তীব্র নিন্দা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আজ রোববার সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে, বিশেষত একজন নারী সংসদ সদস্যকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী।'
নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তাদের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে শহীদ মিনার অবমাননাকারী এবং নারীবিদ্বেষী কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে যে, এ ধরনের আচরণ নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান
মহিলা পরিষদ একই সঙ্গে নারীবিদ্বেষী এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও সম্মানের প্রতি হুমকিস্বরূপ।
রুমিন ফারহানার বক্তব্য
উল্লেখ্য, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে নিজ নির্বাচনী এলাকা সরাইলে বাধার মুখে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি রুমিন ফারহানা। শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, 'গতকাল (একুশের প্রথম প্রহর) যেভাবে নেতা-কর্মীরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন, তা অন্য আসনেও শুরু হবে। বিষয়টিকে (পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা) বিএনপি যদি ইগনোর করতে চায়, তাহলে তাদের জন্য ভালো হবে না। এটা আমার পরিষ্কার বার্তা।'
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন একটি মৌলিক অধিকার এবং এতে বাধা দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এই বিবৃতি নারী অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
