স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে অনশনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে অনশনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে অনশনে রয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ওই ছাত্রী। মজার ব্যাপার হলো, অনশনরত ছাত্রীকে বাড়িতে রেখেই প্রেমিক জুয়েল, তার বাবা সাইফুল ও মা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

মো. জুয়েল একই গ্রামের বাসিন্দা এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, অনশনরত ছাত্রী সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর এলাকার মো. দুলাল মিয়ার মেয়ে, যিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করেছেন।

তিন বছর প্রেম ও গোপন বিয়ের গল্প

ছাত্রী সাংবাদিকদের জানান, "আমরা দুজন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। সেই সুবাদে আমাদের পরিচয় হয় এবং একে অপরকে ভালোবাসি। বিগত তিন বছর যাবৎ আমাদের প্রেম চলমান ছিল। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বন্ধুকে সাক্ষী রেখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হুজুর দিয়ে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, "এরপর থেকে জুয়েল বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে আমার গর্ভে একটি সন্তান আসে, যেটি জুয়েল তার পরিচিত ডাক্তার দিয়ে গর্ভপাত করিয়ে নষ্ট করে ফেলে। এরপর জুয়েল আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং জুয়েলের মা আমাকে পুত্রবধূ হিসাবে গ্রহণ করে আমার সব কাপড় কিনে দেয়।"

হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা

ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, "এতদিন পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে জুয়েল আমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করে না। পরে আমি নিরুপায় হয়ে গত শুক্রবার বিকালে জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেই। এরপর জুয়েল ও তার বাড়ির লোকজন আমাকে পিটিয়ে ঘরের ভিতরে আটকিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন বন্ধ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"

তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, "আমি এখন বারান্দায় বসে আছি। জুয়েল আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আমি আত্মহত্যা করব।"

স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

সূতিপাড়া ইউনিয়নের ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে জুয়েলের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক আমরা শুনেছি। আমরা এলাকাবাসী বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।"

ধামরাই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "একটা মেয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে মেয়ে অথবা মেয়ের বাবা আমাদের কাছে আসলে আমরা মামলা নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করব।"

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং অনেকেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।