‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে একাকী ভেড়া’ ফিওনা যমজ শাবকের জন্ম দিয়ে মাতৃত্বের স্বাদ পেল
একাকী ভেড়া ফিওনা যমজ শাবকের জন্ম দিল

দুই শাবকের সঙ্গে ফিওনা নামের ভেড়ার আনন্দময় মাতৃত্বের গল্প

একসময় যাকে বলা হতো ‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে একাকী ভেড়া’, সেই ফিওনা এখন আর একা নয়। স্কটল্যান্ডের একটি খাড়া গিরিখাতে টানা দুই বছর নিঃসঙ্গ বন্দিজীবন কাটানো আলোচিত ভেড়াটি প্রথমবারের মতো যমজ দুই শাবকের জন্ম দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিসের ডালসকোন খামারে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার প্রসব বেদনা সয়ে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী শাবকের জন্ম দেয় ফিওনা। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও দুই শাবকই বর্তমানে সুস্থ আছে এবং আনন্দের সাথে সময় কাটাচ্ছে।

দুর্গম গিরিখাত থেকে উদ্ধার এবং নতুন জীবন

২০২১ সালে স্কটিশ হাইল্যান্ডসের ক্রোমার্টি ফার্থের এক দুর্গম উপকূলীয় গিরিখাতের নিচে আটকা পড়া অবস্থায় প্রথম দেখা মিলেছিল ফিওনার। কায়াকিং করতে যাওয়া জিল টার্নার তাকে প্রথম দেখেন। দুই বছর পর আবারও ফিওনাকে একই অবস্থায় একা দেখে জিল বুঝতে পারেন, দুর্গম পাহাড় থেকে নামতে না পেরে অসহায়ভাবে দিন কাটছে প্রাণীটির। এরপরই গণমাধ্যমে তাকে ‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে একাকী ভেড়া’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে একদল দুঃসাহসিক উদ্ধারকর্মী দড়ি ব্যবহার করে খাড়া পাহাড় থেকে তাকে উদ্ধার করেন, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

খামারে মানিয়ে নেওয়া এবং মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত

উদ্ধারের পর ফিওনাকে ডালসকোন খামারে রাখা হয়। তবে খামারের অন্যান্য ভেড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ফিওনার কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল, কারণ তার দীর্ঘ নিঃসঙ্গতা তাকে সামাজিকভাবে অনভ্যস্ত করে তুলেছিল। খামার ব্যবস্থাপক বেন বেস্ট জানান, ফিওনার নিঃসঙ্গতা কাটাতে এবং তাকে একটি স্থায়ী সঙ্গী দিতেই ভেড়াটিকে মা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি ফিওনার জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

বেন ব্রেস্ট বলেন, ‘সারা বিশ্বের নজর ছিল তার ওপর। তাই গত পাঁচ মাস আমাদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কেটেছে। কিন্তু এখন আমরা স্বস্তিতে। ফিওনা এখন “বিশ্বের সেরা মা” হওয়ার পথে। তার যত্ন নেওয়া এবং শাবকদের লালনপালন করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’

নামকরণ এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব

বিখ্যাত অ্যানিমেটেড সিনেমা শ্রেক-এর রাজকুমারী ফিওনার নামানুসারে এই ভেড়ার নাম রাখা হয়েছিল। সিনেমায় শ্রেক ও ফিওনার সন্তানদের নাম ছিল ফারগাস, ফার্কেল ও ফেলিসিয়া। খামার কর্তৃপক্ষ এখন ভাবছে, নতুন দুই শাবকের নাম সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে ফারগাস ও ফেলিসিয়া রাখা হবে, নাকি ফিওনার উদ্ধারের জায়গার সঙ্গে মিল রেখে ক্লিফ ও ব্রোরা রাখা হবে। এই সিদ্ধান্তটি ভেড়ার গল্পকে আরও জনপ্রিয় করে তুলছে।

দীর্ঘ নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে ফিওনার এই নতুন মাতৃত্বের গল্প এখন বিশ্বজুড়ে পশুপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে। এটি প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ফিওনার গল্পটি শেখায় যে সহানুভূতি এবং যত্নের মাধ্যমে যে কোনো প্রাণীই নতুন জীবন পেতে পারে।