পাবায় অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি সংলাপে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার জেলার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) প্রোগ্রামের আয়োজনে এতে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন। বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন
ব্র্যাক-জিজেডির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অপূর্ব সাহা “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকার” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে নারী নির্যাতনের বিভিন্ন দিক, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও অনলাইন সহিংসতা তুলে ধরেন। তিনি নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও প্রয়োজন। নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, স্বপ্নশরথি সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন
অনুষ্ঠানে আগামী বছরের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।



