পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর টমটমে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে অভিযুক্তদের মারামারির ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহাসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম লিপি বেগম। তিনি চরহাসনাবাদ এলাকার সিরাজ চৌকিদার বাড়ির শাহজামালের স্ত্রী ও গলাচিপা উপজেলার চর-শিপা গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের কন্যা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, বুধবার সকালে চরহাসনাবাদ এলাকা দিয়ে একটি টমটমে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিপি বেগমকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এ সময় লিপি বেগম চিৎকার করলে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং টমটমটি থামান। স্থানীয়রা বাধা দিলে শাহজামাল ও তার বাবা মোসলেম মৃধা স্থানীয়দের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। হেলাল নামের একজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার ও পুলিশি ব্যবস্থা
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা লিপি বেগমকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্যদিকে শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হেলাল মৃধা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লিপি বেগমের ওপর পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা দেখে আসছেন। সকালে তাকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে শাহজামাল ও তার বাবা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজামালের বড় ভাই নুরুজ্জামান ভোলা জেলায় পুলিশে কর্মরত থাকায় সবাইকে ভয়ভীতি দেখাতেন। তাই কেউ মামলা-হামলার ভয়ে কাছে যেত না। ভুক্তভোগী গৃহবধূ লিপি বেগম জানান, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে অনাহারে জীবনযাপন করছেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। তার ভাসুর পুলিশে চাকরি করেন বলে তার ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে পরিবারকে দূরে রাখা হয়েছে। তারা মামলা-হামলার ভয়ে কেউ কাছে আসে না।
তিনি আরও বলেন, সকালে তাকে মারধর করার পর হাত-পা বেঁধে টমটমে করে কোথায় নিয়ে যেত তা তিনি জানেন না। তিনি চিৎকার করায় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত শাহজামাল বলেন, তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। লিপি তার প্রথম স্ত্রী। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এটা সত্যি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তবে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। শ্বশুর মোসলেম মৃধা বলেন, তার পুত্রবধূকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পুলিশের অবস্থান
দশমিনা থানা ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী লিপির স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



