মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে অনেকে দামি শ্যাম্পু ব্যবহার করেন।
ঘরোয়া তিন উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু উপাদান নিয়মিত চুলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। গবেষণায় এমন তিনটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক।
প্রথম উপাদান হলো রোজমেরি। এটি একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজমেরি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে চুলের গোড়ায় বেশি পুষ্টি পৌঁছে এবং নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি চুল পাতলা হওয়ার সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে।
দ্বিতীয় উপাদান হলো মেথি। রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায় এই মশলায় প্রচুর প্রোটিন, আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলো চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া চুল ভাঙা এবং অতিরিক্ত ঝরে পড়ার সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে।
তৃতীয় উপাদান হলো কারি পাতা। এই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এগুলো চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। অনেকের মতে, নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং অকালপক্ক চুলের সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যবহার পদ্ধতি
প্রথমে নারকেল তেল বা আপনার ব্যবহৃত অন্য কোনো চুলের তেল হালকা গরম করুন। তারপর তাতে কয়েকটি রোজমেরি পাতা, এক চামচ মেথি এবং কিছু কারি পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর তেল ঠান্ডা করে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখুন।
সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই তেল মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগান। কিছুক্ষণ বা সারা রাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
শুধু তেল নয়, জীবনযাত্রায় পরিবর্তনও জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তেল লাগালেই হবে না। চুল ভালো রাখতে সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ঘুমানো এবং মানসিক চাপ কমানোও জরুরি।



