বাজার থেকে ডিম কিনছেন? সহজেই চিনুন টাটকা নাকি পচা
বাজার থেকে ডিম কিনছেন? চিনুন টাটকা নাকি পচা

ডিম প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি অনেকের জন্যই অপরিহার্য। তবে গরমের সময় অন্যান্য খাবারের মতো ডিমও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সমস্যা হলো, বাইরে থেকে দেখে সব সময় বোঝা যায় না ডিমটি টাটকা নাকি কয়েক দিনের পুরোনো। ফলে অনেকেই না বুঝে পচা ডিম কিনে বাড়ি ফেরেন, যা খাওয়া তো দূরের কথা, বরং অর্থের অপচয় হয়। আবার দোকানেই ডিম ভেঙে পরীক্ষা করাও সম্ভব নয়।

জলে ভাসানোর পরীক্ষা

ডিম টাটকা কি না যাচাই করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো ‘ফ্লোট টেস্ট’ বা জলে ভাসানোর পরীক্ষা। একটি পাত্রে এতটা ঠান্ডা জল নিন যাতে ডিম পুরোপুরি ডুবে যায়। এরপর ডিমটি আস্তে করে জলের মধ্যে ছেড়ে দিন।

  • ডিম যদি একেবারে তলায় গিয়ে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকে, তাহলে সেটি একদম টাটকা।
  • ডিম যদি তলায় গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় বা কিছুটা কাত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কয়েক দিনের পুরোনো। সাধারণত এমন ডিম খাওয়ার জন্য নিরাপদ হলেও বেশি দিন সংরক্ষণ না করাই ভালো।
  • আর যদি ডিমটি জলের ওপর ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই উত্তম। এমন ডিম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কেন জলে ভেসে ওঠে ডিম?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিমের খোসার অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাস ভেতরে ঢুকতে থাকে। ফলে ডিমের ভেতরের বায়ুথলি বা এয়ার পকেট ধীরে ধীরে বড় হয়ে যায়। যত বেশি বাতাস জমে, ডিম তত হালকা হয়ে জলে ভেসে ওঠে। বিপরীতে, টাটকা ডিমে বায়ুথলি ছোট থাকে বলে তা সহজেই ডুবে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিম ভাঙার পর কীভাবে বুঝবেন?

ডিম ভাঙার পরও এর সতেজতা যাচাই করা যায়। টাটকা ডিমের সাদা অংশ সাধারণত ঘন ও কিছুটা আঠালো হয়। কুসুম থাকে গোলাকার, উঁচু এবং শক্ত। অন্যদিকে পুরোনো ডিমের সাদা অংশ পাতলা ও জলীয় হয়ে যায়। কুসুমও তুলনামূলক চ্যাপ্টা দেখায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্গন্ধ হলে সাবধান

নষ্ট ডিম চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গন্ধ। ডিম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যদি পচা বা সালফারের মতো তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি অবিলম্বে ফেলে দেওয়া উচিত।

ডিম সংরক্ষণের সঠিক উপায়

ডিম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে সবসময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে ডিম তার মূল কার্টনেই রাখুন। এতে বাইরের গন্ধ ডিমের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না এবং ডিমের গুণগত মান দীর্ঘ সময় বজায় থাকে।