ডালের পুষ্টিগুণ: সস্তা খাদ্যে সুস্থতার চাবিকাঠি
ডালের পুষ্টিগুণ: সস্তা খাদ্যে সুস্থতার চাবিকাঠি

ডালের পুষ্টিগুণ: সস্তা খাদ্যে সুস্থতার চাবিকাঠি

ডালজাতীয় শস্য, যেমন মসুর ডাল, ছোলা, শিম ও মটর ডাল, বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এসব ডাল শুধু দামে সস্তাই নয়, বরং বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি আদর্শ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তিন টেবিল চামচ ডালে প্রায় ৯ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিন চাহিদার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ পূরণ করে।

ডালের পুষ্টি উপাদান ও দৈনিক চাহিদা

ডাল সবচেয়ে বেশি আঁশযুক্ত খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। মাত্র তিন টেবিল চামচ ডাল দৈনিক আঁশের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করতে সক্ষম। পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিন অন্তত আধা কাপ ডালজাতীয় শস্য খাওয়া উচিত, যা শরীরে ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, জিংক, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকের খাদ্যতালিকা আলাদা হতে পারে। তবে, দুই হাজার ক্যালরির একটি আদর্শ খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহে দেড় কাপ শিম, মটর বা মসুর ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ডালের উপকারিতা

সিলিয়াক রোগী: ডালজাতীয় শস্যে কোনো গ্লুটেন থাকে না, তাই সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিরাপদে রান্নার উপকরণ হিসেবে ছোলা, মসুর ডাল বা মটরশুঁটি ব্যবহার করতে পারেন।

ডায়াবেটিক রোগী: ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মসুর ডাল, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার গ্রহণ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের তুলনায় ডালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভেজিটেরিয়ান বা নিরামিষাশী: ডাল প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের, বিশেষ করে আয়রন ও জিংকের, একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এতে আটটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, এবং ভাতের সঙ্গে ডাল খেলে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের সম্পূর্ণ জোগান পাওয়া যায়।

ওজন, কোলেস্টেরল ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণ

ডালজাতীয় খাবারে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন, কম চর্বি এবং মাঝারি পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। এক কাপ রান্না করা মসুর ডাল বা শুকনো মটরে প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ফাইবার চাহিদার প্রায় অর্ধেক থাকে। উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় পেট ভরা বা তৃপ্ত বোধ করতে সাহায্য করে, যা কোলেস্টেরল, ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গর্ভবতী নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য ডাল

ডালে আয়রন, জিংক ও ফোলেটের উপস্থিতি গর্ভবতী নারী এবং কিশোর-কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, ডালে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, যা হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী।

ডাল খাওয়ার সতর্কতা

যাঁদের আইবিএস-ডি, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, কিডনিজনিত সমস্যা বা বাতব্যথাজনিত সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য ডাল খাওয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই, এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ডাল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর, ডালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে এই তথ্যগুলো তুলে ধরেছেন।