ঘরে তৈরি খাবারেও বদহজম: কেন হয় এবং কী করবেন?
প্রতিদিন ডাল-ভাত-তরকারির মতো ঘরে তৈরি হালকা খাবার খাওয়া সত্ত্বেও পেটফাঁপা বা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। ভারি বা বাইরের খাবার এড়িয়ে চললেও গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে জানা দরকার, কেন ঘরের তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও ব্লোটিংয়ের সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং এর সমাধান কী।
ভুল খাদ্যাভ্যাস ও খাওয়ার পদ্ধতি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণেই পেটফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত বেশি তেল-মসলাদার খাবার খেলে এমনটি হয়, কিন্তু সবসময় খাবারের দোষেই বদহজম হয় না। আপনি কীভাবে খাবার খাচ্ছেন, তার ওপরও হজম প্রক্রিয়া নির্ভর করে।
তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া, খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খাওয়া বা মনোযোগ না দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস হজমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে ঘরের তৈরি হালকা খাবার খেলেও ব্লোটিংয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার
কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারও হজমের সময় বেশি গ্যাস তৈরি করতে পারে। পেঁয়াজ, রসুন, ব্রকোলি, অঙ্কুরিত ছোলা, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, রাজমা, কাবুলি চানা, কাজু এবং পাস্তা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এগুলোকে ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেট বলা হয়।
এ ধরনের খাবার অন্ত্রে পৌঁছে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়, যার ফলে গ্যাস বা পেটফাঁপার সমস্যা বাড়ে। অল্প পরিমাণে খেলেও পেট ভরা বা ফাঁপা লাগতে পারে। তাই ঘন ঘন পেটফাঁপার সমস্যায় ভুগলে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
অলস জীবনযাপনের প্রভাব
ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া সত্ত্বেও বদহজম না কমার পেছনে অলস জীবনযাপনও দায়ী হতে পারে। খাওয়ার পরপরই বিছানায় শুয়ে পড়া, দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের সামনে বসে কাটানো এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি। তা না করলে বদহজম, ব্লোটিং এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।
সমাধানের উপায়
বদহজম ও পেটফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে:
- খাবার ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খান।
- ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন, বিশেষত খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মানসিক চাপ কম রাখুন।
এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ঘরে তৈরি খাবারের পাশাপাশি সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে।



