নারায়ণগঞ্জে গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রির ঘটনায় ২০টি ঘোড়া উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকায় একটি অসাধু চক্র গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে জবাই করা নয়টি ও জীবিত ১১টি ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের হারারবাড়ী এলাকার একটি নির্জন প্লটে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র গোপনে ঘোড়া এনে জবাই করে মাংস বিক্রি করছিল। পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, একদল অসাধু ব্যবসায়ী জবাইয়ের উদ্দেশ্যে অন্তত ২০টি ঘোড়া সেখানে নিয়ে আসে। এর মধ্যে তারা নয়টি ঘোড়া জবাই করে ফেলে এবং বাকিগুলো জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিলে র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১১টি জীবিত ও নয়টি জবাই করা ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জীবিত ঘোড়াগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
প্রতারণার পদ্ধতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নির্জন স্থানে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে ওই মাংস গরুর মাংস বলে কম দামে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হতো। ক্রেতারা তা গরুর মাংস ভেবে কিনে খাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসাধু চক্রটি পূর্বাচলের নির্জন এলাকায় রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে কম দামে বিভিন্ন মাংসের দোকান ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করতো। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন। বিষয়টি নতুন নয়; অনেক দিন ধরেই ওই এলাকায় এই কার্যক্রম চলছিল। তবে গোপনে পরিচালিত হওয়ায় এতোদিন তা প্রকাশ্যে আসেনি।
জনমনে উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এ ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হোক এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই ঘটনা খাদ্য শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন যে, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, তারা আরও তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেবে।



