সিলেটে রোজার প্রথম দিনেই ইফতারির বাজার জমজমাট, আখনি-খিচুড়ির চাহিদা তুঙ্গে
সিলেটে ইফতারির বাজার জমজমাট, আখনি-খিচুড়ির চাহিদা তুঙ্গে

সিলেটে রোজার প্রথম দিনেই ইফতারির বাজার জমজমাট

সিলেট নগরে রোজার প্রথম দিন বৃহস্পতিবারই ইফতারির বাজার জমে উঠেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতে ইফতারসামগ্রী বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, শাহি ঈদগাহ, উপশহর, সোবহানীঘাট, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, পাঠানটুলা, মদিনামার্কেট, সুবিদবাজার, লামাবাজার, তালতলা, কাজিরবাজার ও হুমায়ূন রশিদ চত্বর এলাকায় ইফতারির কেনাকাটা চলছে দেদার।

আখনি ও পাতলা খিচুড়ির চাহিদা শীর্ষে

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোজাদারদের চাহিদার শীর্ষে আছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আখনি ও পাতলা খিচুড়ি। পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের ট্রাস্টি আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) বলেন, "সুগন্ধি চাল ও মাংস দিয়ে আখনি রান্নার পদ্ধতি ঢাকার তেহারির মতো হলেও স্বাদের দিক থেকে সিলেটের আখনি স্বতন্ত্র। ইফতারিতে সব সময় সিলেটিদের পছন্দের শীর্ষে থাকে আখনি। পাতলা খিচুড়ির কদরও এখানে ব্যাপক।"

এক দশক ধরে সিলেটের ইফতারি বাজারে নানা বৈচিত্র্যময় পদের পাশাপাশি আখনি, ভুনা খিচুড়ি ও পাতলা খিচুড়িও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারজাত করছে। আগে পরিবারগুলোতে ঘরোয়াভাবে এই পদগুলো তৈরি করা হতো; এখনো বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় এর চাহিদা অটুট।

ইফতারির দাম ও প্রস্তুতি

দোকানিরা জানিয়েছেন, প্রতি কেজি মাটন আখনি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বিফ আখনি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, চিকেন আখনি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, ভুনা খিচুড়ি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, পাতলা খিচুড়ি বড় বাটি ১২০ টাকা ও ছোট বাটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোয় দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি হতে পারে।

জিন্দাবাজার এলাকার পানসী রেস্টুরেন্টের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, "সিলেটে প্রতিবছরই রোজাদারদের পছন্দের শীর্ষে থাকে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি। রমজানের প্রথম দিন আমাদের রেস্টুরেন্টে গড়ে ২০০ কেজি আখনি এবং ৫০ কেজি পাতলা খিচুড়ি প্রস্তুত করা হয়। রোজার কয়েক দিন গেলে এ দুটো পদের চাহিদা আরও বাড়বে।"

বিক্রি হচ্ছে নানা পদ

ইফতারির বাজারে শুধু আখনি ও খিচুড়িই নয়, বিক্রি হচ্ছে জিলাপি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, চিকেন শামি কাবাব, শিন্নি বিফ, চিকেন বারবিকিউ চাপ, পুডিং, ফিরনি, আলু চপ, ডিম চপ, শাকের বড়া, বিফ চাপ, বিফ জালি কাবাব, চিকেন টিক্কা, চিকেন পাকুড়া, চিকেন গ্রিল, চিকেন উইংস, বটি কাবাব, শিক কাবাব, বিরিয়ানি, হালিম, চিকেন শাশলিক, ফ্রাই চিকেন, বিফ নেহারি হালিম, গরুর কালাভুনা, মুরগির রোস্ট, চিকেন কাঠি, গরুর সুতি কাবাব ও চিকেন ললিপপসহ নানা পদ। সালাদ কেটে বিক্রিও করছেন অনেকে।

সাগরদিঘিরপার এলাকার বাসিন্দা খায়রুল হক বলেন, "প্রথম রমজানেই বাসায় আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করেছেন। ঘরে ইফতারি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি বাজার থেকে জিলাপি, ছোলা, বড়াসহ চিকেনজাতীয় কিছু পদ কিনবেন। তবে সিলেটি ঐতিহ্য অনুযায়ী আখনি ও পাতলা খিচুড়ি ঘরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন ইফতারে এ দুটি পদ আমাদের থাকেই।"

বন্দরবাজার এলাকার ভ্রাম্যমাণ ইফতারসামগ্রী বিক্রেতারা জানান, জিলাপি, ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু ও শাকের বড়া বিক্রি হলেও আখনি ও পাতলা খিচুড়িই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। রোজাদারদের কাছে এই পদ দুটির কদর অসামান্য বলে তারা উল্লেখ করেন।