ওজন কমানোর নতুন ওষুধগুলো কেবল ক্ষুধা মেটাচ্ছে না, বরং সরাসরি প্রভাব ফেলছে মস্তিষ্কের সেই অংশে যা আমাদের আনন্দ ও প্রেরণা নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণার মূল ফলাফল
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নতুন প্রজন্মের মুখে খাওয়ার ওজন কমানোর ওষুধগুলো মস্তিষ্কের অত্যন্ত গভীরে পৌঁছে যায়। এগুলো কেবল পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় না, বরং উচ্চক্যালরি বা সুস্বাদু খাবার খাওয়ার যে মানসিক আকাঙ্ক্ষা বা ‘ইচ্ছা’, সেটিকেও কমিয়ে দেয়।
মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীতে পরিবর্তন
গবেষণার প্রধান নিউরোসায়েন্টিস্ট আলি ডি গুলার বলেন, এই ওষুধগুলো কেবল আপনার পেট ভরাচ্ছে না, বরং কেক খাওয়ার যে তীব্র বাসনা, সেই সিস্টেমটিকেই বদলে দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের ‘সেন্ট্রাল অ্যামিগডালা’ (আবেগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) এবং ডোপামিন তৈরি করা নিউরনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ডোপামিন হলো সেই রাসায়নিক যা আমাদের আনন্দ বা পুরস্কারের অনুভূতি দেয়। ওষুধগুলো ডোপামিন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, ফলে খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।
ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক
মস্তিষ্কের এই পরিবর্তন কেবল ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এর কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন, এর মাধ্যমে ধূমপান বা অতিরিক্ত নেশা করার মতো বদভ্যাস নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে। এটি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার রোগ নিরাময়েও কাজ করতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি সাধারণ জীবনের আনন্দ বা উদ্দীপনা অনুভব করার ক্ষমতাও কিছুটা হারিয়ে ফেলতে পারেন।
ওষুধের প্রাপ্যতা ও সতর্কতা
আগে এই জাতীয় ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া হতো, তবে এখন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ট্যাবলেট বাজারে এসেছে। গবেষক গুলার সতর্ক করে বলেন, এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী যৌগ। এগুলো সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের ব্যবহারের তালিকায় যাওয়ার আগে আমাদের পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে যে, এটি মানুষের আচরণ বা মনস্তত্ত্বে কোনো স্থায়ী প্রভাব ফেলছে কি না।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।



