শরীরের ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
শরীরের ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে অভ্যাস বদলান

শুধু মুখ নয়, ব্রণ বা 'বডি অ্যাকনে' পিঠ, কাঁধ, ঘাড় কিংবা বুকেও দেখা দিতে পারে। এর নেপথ্যে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কিছু ভুল অভ্যাস। জিম বা ব্যায়ামের পর দীর্ঘক্ষণ ঘামে ভেজা জামা পরে থাকা বডি অ্যাকনের অন্যতম প্রধান কারণ। ঘাম যখন ত্বকের তেল, মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা রোমকূপ বন্ধ করে দেয় এবং ব্রণের সৃষ্টি করে। আর আঁটসাঁট বা সিন্থেটিক পোশাক পরলে ত্বক ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না এবং ঘাম আটকে থাকে। এর ফলে ঘর্ষণজনিত ব্রণ তৈরি হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'অ্যাকনে মেকানিকা'।

বডি অ্যাকনের কারণ ও প্রতিকার

পরিবেশের ধুলাবালি ও ঘামের কারণে দেহের নানা অংশের ব্রণ ভোগান্তির কারণ হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার বড় অংশই লুকিয়ে রয়েছে প্রতিদিনের খাদ্যভ্যাসে। সে ক্ষেত্রে কী করলে আপনার শরীরের ব্রণ থেকে মিলবে মুক্তি? আমরা মুখে ব্রণের সমস্যা নিয়ে কম-বেশি সবাই সচেতন থাকি, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশেও হওয়া ব্রণ অনেক সময়ে অবহেলার পাত্র হয়ে ওঠে।

গরমে বাড়ে সমস্যা

বিশেষ করে গরমের সময়ে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। পিঠ ও কাঁধে বা বুকের ওপর ছোট ছোট ব্রণ দেখা দিতে পারে। মুখের ত্বকচর্চার জন্য হাজারো রুটিন থাকলেও শরীরের ত্বক ততটা গুরুত্ব পায় না। অথচ পরিবেশের ধুলাবালি ও ঘামের কারণে দেহের নানা অংশের ব্রণ ভোগান্তির কারণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিম থেকে ফিরে বা বাইরে থেকে ঘেমে এসে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে জামা বদলান না। এ অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ঘাম, তেল আর ময়লা ত্বকের ওপর জমে থাকে, কাপড় সেই আর্দ্রতা আটকে রাখে— এমন পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়া দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতি ব্রণ হওয়ার জন্য একেবারে আদর্শ। তা ছাড়া ভারি বা তৈলাক্ত বডি লোশন ব্যবহার করে রোমকূপ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এই গরমে। এমন অবস্থায় বার বার ঘাম মুছতে গিয়ে ত্বক ঘর্ষণের শিকার হয়। এতে জ্বালা ও সংক্রমণ বাড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্বকের সুরক্ষায় করণীয়

রোদে পোড়া, ঘাম আর দূষণের সংস্পর্শে আসা শরীরের ত্বক অনেক বেশি স্পর্শকাতর। তা সত্ত্বেও উপযুক্ত ত্বকচর্চার অভাবে এর প্রাকৃতিক সুরক্ষার স্তর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু অভ্যাস বদলালে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। নিচে কিছু কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:

  • আপনি শরীরচর্চার পর কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘাম হলে দ্রুত গোসল করুন।
  • ঘামে ভেজা জামা সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলুন।
  • ঢিলেঢিলা ও বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় পরিধান করুন।
  • হালকা, নন-কমেডোজেনিক প্রসাধন ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বকের রোমকূপ বন্ধ না করেই যত্ন নেয়।
  • ত্বক পরিষ্কার রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না ত্বকের ওপর।