বাংলাদেশের ঘরোয়া রান্নায় কলার মোচা একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় উপাদান। মোচার ঘণ্ট থেকে শুরু করে নানা ধরনের তরকারি, ভাজি ও অন্যান্য পদে এটি বাঙালির খাদ্যতালিকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থান করে নিয়েছে। দুপুরের খাবারে মোচা ভাজি বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে অনেকেই তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন। শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই উপাদানটি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কলার মোচার পুষ্টিগুণ
পুষ্টিবিদদের মতে, কলার মোচায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন-ই। কলা গাছের ফুল, ফল ও পাতা—সব অংশেই উপকারী পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। মোচা বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
মোচার পানীয় বা পাঁচনের উপকারিতা
মোচার পানীয়, যা ‘পাঁচন’ নামেও পরিচিত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও শক্তিবর্ধক উপাদান রয়েছে, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এটি বয়সজনিত প্রভাব কমাতেও সহায়তা করতে পারে। নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এই পানীয় উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা জানান, কাঁচা হলুদ মিশিয়ে গ্রহণ করলে মোচার পাঁচনের উপকারিতা আরও বাড়তে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নে মোচার ব্যবহার
শুধু খাবারেই নয়, ত্বক পরিচর্যাতেও মোচার ব্যবহার রয়েছে। হেয়ার সিরাম, ফেশিয়াল অয়েল, ক্রিম ও স্ক্রাব তৈরিতে মোচা ব্যবহৃত হয়। অনেকে ঘরোয়া উপায়ে মোচার অংশ দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করেন। এর প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
মোচার পাঁচন তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে মোচা ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। এরপর সামান্য লবণ যোগ করে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে এতে জিরা গুঁড়া ও কালোজিরা মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মোচার পাঁচন। এই পানীয়টি নিয়মিত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কলার মোচা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করা যেতে পারে। এটি যেমন সহজলভ্য, তেমনি রান্নায় ব্যবহার করাও সহজ। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মোচা রাখলে শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।



