ঈদুল আজহায় কোরবানির মাংসের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেওয়া মাংসও সংরক্ষণ করতে হয় ফ্রিজে। একসঙ্গে অনেক মাংস রাখতে গিয়ে অনেক সময় ফ্রিজে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে মাংস ঠিকভাবে হিমায়িত হয় না। এতে স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফ্রিজে সংরক্ষণের সময় কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
মাংস সংরক্ষণে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
মাংস ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন
কাটার সঙ্গে সঙ্গে মাংস ফ্রিজারে রাখবেন না। তখন মাংস কিছুটা গরম থাকে। রুম টেম্পারেচারে আসার পর ফ্রিজারে রাখলে ভালোভাবে হিমায়িত হবে।
ধুয়ে নয়, রক্ত মুছে সংরক্ষণ করুন
মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখলে স্বাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যু দিয়ে রক্ত মুছে তারপর সংরক্ষণ করুন।
ছোট ছোট ভাগে প্যাকেট করুন
একসঙ্গে অনেক মাংস একটি ব্যাগে রাখবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে রাখুন। এতে ডিফ্রস্ট করা সহজ হবে এবং বারবার গলানোর কারণে স্বাদও নষ্ট হবে না।
প্যাকেটে তারিখ লিখে রাখুন
প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখুন। সাধারণত গরু বা খাসির মাংস চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে ফ্রিজারে।
ফ্রিজারের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন
ফ্রিজারের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটে আছে কিনা নিশ্চিত করুন। এতে বড় বরফের স্তর তৈরি হবে না এবং মাংস দ্রুত শুকিয়েও যাবে না।
এয়ারটাইট প্যাকেজিং ব্যবহার করুন
ফ্রিজার-সেফ ব্যাগ বা পাত্র ব্যবহার করুন। প্যাকেটের ভেতরের বাতাস যতটা সম্ভব বের করে সিল করুন। প্রয়োজন হলে প্লাস্টিক র্যাপ বা ফয়েল দুই স্তরে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ফ্রিজার বার্নের ঝুঁকি কমবে।
প্যাকেট শুইয়ে রাখুন
মাংসের প্যাকেট খাড়া করে না রেখে শুইয়ে রাখুন। এতে জায়গা কম লাগবে এবং বেশি মাংস রাখা যাবে। প্যাকেটের মাঝে নিউজপ্রিন্ট কাগজ দিলে আলাদা করতে সুবিধা হবে।
বারবার ফ্রিজ খোলা এড়িয়ে চলুন
মাংস সংরক্ষণের পর ঘন ঘন ফ্রিজের দরজা খুলবেন না। দরজা ঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।



