টানা তৃতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছেন বাসিন্দারা, কিন্তু এবারও কোরবানির পশু ছাড়াই। ইসরায়েলি অবরোধ ও চলমান যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে প্রয়োজনীয় সরবরাহ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
কোরবানির পশু নেই
গাজার স্থানীয় কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরও উপত্যকায় কোনো পশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বাসিন্দাদের পক্ষে কোরবানি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশ যেখানে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে গাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উৎসবের কোনো চিহ্ন নেই বললেই চলে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের সময় যেসব কসাইখানা ব্যস্ত থাকত, সেগুলো এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ধ্বংস হয়ে গেছে।
বাসিন্দাদের বেদনা
একজন বাসিন্দা জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে পরিবারগুলো ঈদে গরু ও ছাগল কোরবানি করত এবং শিশুরা আনন্দে মেতে উঠত। তিনি বলেন, এখন গাজায় ঈদ বলতে কিছু নেই। যুদ্ধবিরতির সময়ও হামলা চলছে।
অন্য একজন বাসিন্দা মুসলিম বিশ্বের কাছে কোরবানির পশু পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশ্ন করেন, কেন গাজার শিশুরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে?
যুদ্ধের আগে ও পরে
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি বছর গাজায় প্রায় ২০ হাজার গবাদি পশু ও ৪০ হাজার ভেড়া কোরবানির জন্য আমদানি করা হতো। কিন্তু এখন সীমিত খাদ্য সহায়তা ছাড়া প্রায় কোনো সরবরাহই উপত্যকায় প্রবেশ করছে না।
গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বাহা আগা জানান, যুদ্ধের সময় ৮০ হাজারের বেশি গবাদি পশু মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত 'ইয়েলো জোনের' আওতায়, যেখানে উপত্যকার অধিকাংশ খামার অবস্থিত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানে গবাদি পশুর খামার, পশুচিকিৎসা কেন্দ্র এবং খাদ্য গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ গাজায় মানবিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পণ্যের নির্বিঘ্ন প্রবেশের আহ্বান জানালেও, সহায়তা সরবরাহ আগের স্তরের প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ায়, ভিড় করে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিশুরা টানা কয়েক বছর ধরে ঈদ উদযাপনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।



