মালয়েশিয়ার মুসাং কিং ডুরিয়ান বিশ্বের বাজে ফলের তালিকায় দশম
মালয়েশিয়ার মুসাং কিং ডুরিয়ান বাজে ফলের তালিকায় দশম

বিশ্বজুড়ে বেশ নামডাক রয়েছে মালয়েশিয়ার ‘মুসাং কিং’ জাতের ডুরিয়ানের। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুড ম্যাগাজিন টেস্টঅ্যাটলাস-এর করা বিশ্বের সবচেয়ে ‘বাজে রেটিং’ পাওয়া ৩৭টি ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল ফলের তালিকায় এবার জায়গা করে নিয়েছে এটি। অজনপ্রিয়তার এই তালিকায় ১০ নম্বরে রয়েছে ফলটি।

ফলের বর্ণনা ও ইতিহাস

টেস্টঅ্যাটলাস ফলটির বর্ণনা দিয়ে বলেছে, ‘ফলটি বেশ বড় এবং এর গায়ে একটি স্বতন্ত্র কাঁটাযুক্ত খোসা রয়েছে।’ ম্যাগাজিনটির তথ্য অনুযায়ী, এই জাতটি অন্তত ২০০ বছর ধরে ‘রাজা কুনিইত’ নামে পরিচিত হলেও এটি মূলত ১৯৮০-এর দশকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সে সময় এর স্বাদ ও গুণগত মানে স্থায়িত্ব আসে এবং মালয়েশিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের কাছে ফলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।

চাষ ও ব্যবহার

বর্তমানে মুসাং কিং ডুরিয়ান মূলত মালয়েশিয়ায়, বিশেষ করে পাহাং অঞ্চলে চাষ করা হয়। এর প্রিমিয়াম গুণগত মানের জন্য ফলটি বেশ প্রশংসিত এবং সিঙ্গাপুর ও চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এটি বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত এটি তাজা ফল হিসেবে খাওয়া হয় কিংবা আইসক্রিম, কেক ও পেস্ট্রির মতো বিভিন্ন মিষ্টি খাবারে ডেজার্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ঋতুতে এই ফল সংগ্রহ করা হয়, যার মূল মৌসুম জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তালিকার শীর্ষে অন্যান্য ফল

টেস্টঅ্যাটলাসের এই তালিকায় সবচেয়ে বাজে রেটিং পাওয়া ট্রপিক্যাল ফল হয়েছে ভারতের কদবেল (উড অ্যাপেল)। এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পর্তুগালের ‘অ্যানোনা ডা মাদেইরা’, যা দেখতে অনেকটা আর্টিচোকের মতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেটিং প্রক্রিয়া

টেস্টঅ্যাটলাস জানিয়েছে, তাদের এই খাবারের র‍্যাংকিং বা তালিকা তৈরি করা হয় পাঠকদের রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে। তবে আসল ব্যবহারকারী চেনার জন্য তাদের সিস্টেমে বেশ কিছু স্বয়ংক্রিয় কৌশল রয়েছে, যা বট, জাতীয়তাবাদী কিংবা স্থানীয় দেশপ্রেমের বশবর্তী হয়ে দেওয়া রেটিংগুলোকে এড়িয়ে যায়। পাশাপাশি যেসব ব্যবহারকারীকে সিস্টেম ‘খাবার সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন’ হিসেবে শনাক্ত করে, তাদের রেটিংকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সবচেয়ে কম পছন্দের ট্রপিক্যাল ফলের এই তালিকাটির জন্য মোট ২ হাজার ৫৮২টি রেটিং জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১ হাজার ৬৪৬টি রেটিংকে সিস্টেমটি বৈধ বা আসল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অবশ্য টেস্টঅ্যাটলাস স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের এই র‍্যাংকিংকে বিশ্বজুড়ে খাবারের চূড়ান্ত বা শেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সূত্র: ইভিএন এক্সপ্রেস