নষ্ট না টাটকা: ডিম ভাঙার আগে চেনার ৪ সহজ উপায়
নষ্ট নাকি টাটকা: ডিম ভাঙার আগে চেনার ৪ উপায়

ডিম নষ্ট নাকি টাটকা? ভাঙার আগেই চেনার ৪টি সহজ উপায়

ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি অপরিহার্য ও পুষ্টিকর উপাদান। তবে অনেক সময় একসঙ্গে কেনা ডিম ফ্রিজে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রান্নার সময় একটি নষ্ট ডিম পুরো খাবারটি নষ্ট করে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ডিম ভাঙার আগেই বোঝা সম্ভব এটি খাওয়ার উপযোগী কি না। নিচে চারটি কার্যকর পরীক্ষা তুলে ধরা হলো।

১. ডিমের খোসার রং ও গন্ধ পর্যবেক্ষণ

ফ্রিজ থেকে ডিম বের করার পর প্রথমেই এর বাইরের অংশ ভালোভাবে দেখুন। সাধারণত সাদা ডিমের খোসা উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক সাদা হয়। যদি খোসায় অস্বাভাবিক গোলাপি বা বিবর্ণ আভা দেখা যায়, তবে সতর্ক হোন। ডিম ভাঙার পর যদি দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ব্যবহার করবেন না। এমন ডিম সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।

২. পানিতে ভাসিয়ে পরীক্ষা

এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি। একটি গভীর বাটিতে ঠান্ডা পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ডুবিয়ে দিন। ফলাফল: ডিমটি যদি একেবারে নিচে ডুবে যায়, তবে এটি টাটকা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে বা মাঝামাঝি ভাসলে ডিমটি কিছুটা পুরোনো, তবে সাধারণত খাওয়ার উপযোগী। সম্পূর্ণ ভেসে উঠলে ডিমটি অনেক পুরোনো এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি; এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. কানের কাছে ঝাঁকিয়ে শব্দ শোনা

এটি একটি সহজ ও মজার কৌশল। ডিমটি কানের কাছে ধরে আস্তে আস্তে ঝাঁকান। যদি ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায়, তাহলে ডিমটি অনেক পুরোনো বা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যদি কোনো শব্দ না হয়, তাহলে ডিমটি সাধারণত ভালো অবস্থায় রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৪. ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ পরীক্ষা

ডিম ভাঙার পরও এর মান সহজেই বোঝা যায়। ভালো ডিমের কুসুম গোল ও উঁচু থাকে এবং সাদা অংশ ঘন হয়, যা কুসুমের চারপাশে লেগে থাকে। নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো ডিমের কুসুম চ্যাপ্টা বা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে, সাদা অংশ পানির মতো পাতলা হয়ে যায় এবং দুর্গন্ধ থাকে। দুর্গন্ধ থাকলে সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে।

সংরক্ষণ ও ব্যবহারের টিপস

ডিম কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের আগে প্রতিটি ডিম আলাদা পাত্রে ভেঙে নিলে পুরো রান্না নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। একটি নষ্ট ডিম পুরো রান্নার স্বাদ ও মান নষ্ট করে দিতে পারে। সামান্য সচেতনতা এবং এই চারটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই ভালো ও নষ্ট ডিম আলাদা করা সম্ভব। তাই রান্নার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ডিম পরীক্ষা করুন। এতে খাবারের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি পরিবারও থাকবে নিরাপদ ও সুস্থ।