১১০তম কিআড্ডায় উৎসবের আমেজ: গল্প, ইতিহাস ও সিনেমার মেলবন্ধন
১১০তম কিআড্ডার সূচনা হয়েছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত পরিবেশে। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষ না হতেই আড্ডায় উপস্থিত হন কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি মজার গল্প বলার পাশাপাশি টাকার ম্যাজিক এবং অঙ্কের জাদু দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপর নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান তানজিম তীর্থ অদ্ভুত ও মজার প্রশ্ন করে আড্ডাকে আরও জমজমাট করে তোলেন।
ইতিহাসের পাতায় ভ্রমণ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গল্প
হাসিঠাট্টার পর আড্ডার মোড় ঘুরে যায় ইতিহাসের দিকে। কিশোর আলোর নিয়মিত লেখক মোজাহিদুল ইসলাম মণ্ডল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের পেছনের গল্প শোনান। তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থেকে দেশ দুটির মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে দূতাবাস আটকের ঘটনায় ফাটল ধরে। আলোচনায় নাসার আর্টেমিস মিশন এবং চাঁদে যাওয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও উঠে আসে।
সিনেমার মনস্তত্ত্ব: রাষ্ট্রীয় প্রভাব ও রুচি গঠন
আড্ডা এরপর সিনেমার জগতে প্রবেশ করে। কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত সিনেমা কীভাবে মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেন। তিনি মানুষের চিন্তাভাবনার ওপর রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের প্রভাব এবং ভালো সিনেমা দেখার রুচি গঠনে হলিউড ও ইরানের চলচ্চিত্রের ভূমিকা তুলে ধরেন।
কিআর এপ্রিল সংখ্যা ও খেলাধুলার পূর্বাভাস
কিআড্ডা কিশোর আলো ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাই এপ্রিল সংখ্যার পর্যালোচনায় অংশ নেয় পাঠকরা। তারা সংখ্যার ভালো ও মন্দ দিক নিয়ে মতামত দেয়। এরপর কিশোর আলোর নিয়মিত লেখক মৃণাল সাহা খেলাধুলা এবং আসন্ন বিশ্বকাপের পূর্বাভাস নিয়ে আলোচনা করেন।
কুইজ ও সমাপ্তি: স্মৃতির ভাণ্ডার
আড্ডার শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় কিআ কুইজ, যেখানে বিজয়ীরা দারুণ পুরস্কার লাভ করে। দিনভরের গল্প ও হাসির মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করতে সবার একসঙ্গে ছবি তোলা হয়। জাহিন যাঈমাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় এবং আহমাদ মুদ্দাসসেরের পরিচালনায় এই আয়োজন সফলভাবে শেষ হয়। সবশেষে চিপসের প্যাকেট হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ১১০তম কিআড্ডার একরাশ স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।



