কবি রাবেয়া আক্তারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'কাব্য সূচনায় দশ'-এর মোড়ক উন্মোচন
রাবেয়া আক্তারের কাব্যগ্রন্থ 'কাব্য সূচনায় দশ' উন্মোচন

কবি রাবেয়া আক্তারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'কাব্য সূচনায় দশ'-এর মোড়ক উন্মোচন

কবি ও সমাজসেবী রোটারিয়ান রাবেয়া আক্তারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'কাব্য সূচনায় দশ'-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত এবং দেশের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বইটি প্রকাশ করেছে ভিন্নমাত্রা প্রকাশনী, যা সাহিত্য জগতে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

বইটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

কাব্যগ্রন্থটিতে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ পাঁচটি কবিতা স্থান পেয়েছে। কবিতাগুলোতে পারিবারিক জীবন, সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসা এবং সমাজে নারীর অবস্থান আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কবি তার একমাত্র মেয়েকে উৎসর্গ করে একটি দীর্ঘ কবিতা লিখেছেন, যেখানে মায়ের অনুভূতি, সন্তানের প্রতি মমতা এবং একজন নারীর অন্তর্দহন ও স্বপ্নের কথা হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটে উঠেছে।

বিক্রয়লব্ধ অর্থের ব্যবহার

কবি রাবেয়া আক্তার জানান, তার এ কাব্যগ্রন্থ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ 'হোসনেয়ারা বশির ট্রাস্ট'-র মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এটি তার সমাজসেবামূলক কাজের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সাহিত্যের সমন্বয়কে তুলে ধরে।

পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান

এর আগে রাজধানীর ভিক্টোরিয়া হোটেলে ফেনী সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হাতে বইয়ের একটি কপি তুলে দেন কবি রাবেয়া আক্তার। এই ঘটনাটি বইটির সামাজিক গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

কবির ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন

রাবেয়া আক্তার মরহুম হাজি বশির উদ্দিন আহমেদের কন্যা। তার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ছিলেন, এবং তার মা একজন সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে রাবেয়া আক্তার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চিফ লাইব্রেরিয়ান ও আর্কাইভ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি রোটারি ক্লাব অব ঢাকা স্কলারের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট (২০২৭) এবং গ্লোবাল নলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

এই কাব্যগ্রন্থটি শুধুমাত্র সাহিত্যিক সৃষ্টিই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কবির বহুমুখী প্রতিভা ও সমাজসেবার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।