এস এম জাহিদ হাসানের 'ফেলে আসা আশি' গ্রন্থ প্রকাশ: আশির দশকের গ্রামীণ জীবনের স্মৃতিগদ্য
জাহিদ হাসানের 'ফেলে আসা আশি' গ্রন্থ প্রকাশ, আশির দশকের স্মৃতি

এস এম জাহিদ হাসানের 'ফেলে আসা আশি' গ্রন্থ প্রকাশ: আশির দশকের স্মৃতির আলেখ্য

এস এম জাহিদ হাসানের স্মৃতিগদ্য গ্রন্থ 'ফেলে আসা আশি' প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অনার্য পাবলিকেশন্স লিমিটেড, যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। গ্রন্থটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। এটি লেখকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিচারণা হিসেবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

আশির দশকের গ্রামীণ জীবনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

আশির দশকে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিশেলে গড়ে ওঠা সমাজে তখনও স্পষ্টভাবে টিকে ছিল বাংলা ও বাঙালিয়ানা। নগরায়নের প্রভাব তখনও পুরোপুরি গ্রাম ও মফস্বলকে গ্রাস করতে পারেনি, তবে তার ছোঁয়া ধীরে ধীরে পৌঁছাতে শুরু করেছিল। 'ফেলে আসা আশি' বইটিতে উঠে এসেছে সেই সময়ের সমাজ, মানুষ ও জীবনের নানা স্মৃতি, যা পাঠকদের অতীতের দিকে নিয়ে যায়।

তৎকালীন গ্রামীণ জীবনে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত। উৎসব, পার্বণ, সামাজিক আচার—সবকিছুই ছিল নিজস্ব রঙে রাঙানো। সময়ের সঙ্গে এসবের অনেক কিছুই বদলে গেছে। সেই পরিবর্তনের ভেতরেও স্মৃতিবিজড়িত অনুভূতির কিছুটা ছোঁয়া পাওয়া যাবে বইটির পাতায়, যা পাঠকদের আবেগময় করে তোলে।

লেখকের জীবন ও কর্ম

লেখক এস এম জাহিদ হাসান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইলের গোসাই জোয়াইর গ্রামে। তার বাবা মো. আফতাব উদ্দীন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, এবং মা জাহানারা বেগম। সাংস্কৃতিক আবহেই বেড়ে ওঠা জাহিদ হাসান ছোটবেলা থেকেই যুক্ত ছিলেন নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।

  • জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে লেখালেখির শুরু সেই সময় থেকেই।
  • তিনি 'সূর্যের প্রতিবেশী' নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন।
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • বর্তমানে 'ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি'র সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।
  • পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম’র প্রকাশকও তিনি।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। অবসর সময়ে গান শোনা, বই পড়া এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ানো তার পছন্দের কাজ।

গ্রন্থের মূল উপজীব্য ও পূর্ব প্রকাশনা

লেখকের দেখা আশির দশকের প্রকৃতি, মানুষ, তাদের যাপিত জীবন, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতাই বইটির প্রধান উপজীব্য। এটি শুধু স্মৃতিচারণা নয়, বরং একটি যুগের দলিল হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য, অনার্য পাবলিকেশন্স থেকে এর আগে লেখকের আরেকটি বই 'চলতি পথের বাঁকে' প্রকাশিত হয়েছে, যা তার সাহিত্যিক যাত্রার আরেকটি মাইলফলক।

এই গ্রন্থটি পাঠকদের জন্য একটি মূল্যবান সংযোজন, যা আশির দশকের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।