বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের ভাষ্যে বদরুদ্দীন উমরের কালজয়ী অবদান
মোহাম্মদ আজমের ভাষ্যে বদরুদ্দীন উমরের কালজয়ী অবদান

লেখক-গবেষক, রাজনীতিক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এক গভীর মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বদরুদ্দীন উমর সেই গুটিকয়েক ব্যক্তিদের একজন, যারা ষাটের দশকের অসাধারণ সময়ে ‘কালের অজ্ঞান’ বা ‘কালের অচেতন’কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ধরতে পেরেছিলেন।

সেমিনারে মূল বক্তব্য

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমিতে বদরুদ্দীন উমরকে নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে মোহাম্মদ আজম এ মন্তব্য করেন। সেমিনারটিতে মূলত অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ আজম।

মোহাম্মদ আজমের বিশ্লেষণ

বক্তব্যে মোহাম্মদ আজম বলেন, “এই যে ধরতে পারা— এটার কারণেই তিনি প্রস্তুত ছিলেন। আমরা তার মার্ক্সবাদী জ্ঞানকে এই প্রস্তুতি হিসেবে দেখবো। একইভাবে পশ্চিমা দর্শন ও তত্ত্বের ওপর তার বিস্তৃত পাঠকেও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কারণ তিনি প্রস্তুত ছিলেন বলেই কালের সেই অজ্ঞান— যা অনেকের কাছে ধরা দেয় না— তা বদরুদ্দীন উমরের কাছে ধরা দিয়েছিল।”

আজমের মতে, বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীতা, তত্ত্বচর্চা এবং মার্ক্সবাদী ধারার যে আধুনিক পর্ব গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম প্রধান চরিত্র ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। তার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।

ফিরোজ আহমেদের প্রবন্ধ উপস্থাপনা

সেমিনারে বদরুদ্দীন উমরকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিরোজ আহমেদ। তিনি বর্তমানে গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিরোজ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “বদরুদ্দীন উমর কেবল গণঅভ্যুত্থানকেই যথেষ্ট মনে করেন না, তিনি দেখিয়েছেন যে বাংলাদেশে ছোট-বড় নানা ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। কিন্তু একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রগঠনের কল্পনা ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পরও পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে এবং একই ধরনের দখলদারিত্ব আবার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”

অন্যান্য বক্তার অংশগ্রহণ

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন কবি, গল্পকার ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষক সুমন রহমান। তার উপস্থিতি ও মতামত অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

এই সেমিনারটি বদরুদ্দীন উমরের জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানে এমন আলোচনা আয়োজন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।