২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের উদ্বেগ: রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মেলা আয়োজনে আপত্তি
২০২৬ বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের উদ্বেগ: রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আপত্তি

২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের উদ্বেগ: রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মেলা আয়োজনে আপত্তি

সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বইমেলা, যা ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলে। তবে, ২০২৬ সালের জন্য ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বইমেলা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এই সময়টিতে পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় প্রকাশকরা গভীর চিন্তায় পড়েছেন। তাদের জোরালো দাবি, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলার আয়োজন করা হোক। এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

প্রকাশকদের যুক্তি ও উদ্বেগ

প্রকাশকরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচন পরবর্তী অস্থিরতা এবং রমজান মাসের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ফেব্রুয়ারির শেষে মেলা আয়োজন পাঠকশূন্য ও ব্যবসায়িকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এই আহ্বান জানান। চিঠিতে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, "দেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, তা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে আপনার অঙ্গীকারের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন।" অতীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালীন শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে একুশে পদক ও ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পদক প্রবর্তনের মাধ্যমে মেধা ও মননের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছিলেন।

প্রকাশনা শিল্পের বর্তমান সংকট

প্রকাশকরা আরও উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এমতাবস্থায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে, এবং শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় মেলা নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়িক আত্মহত্যার শঙ্কা

চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন, এ সময়ে মেলায় অংশ নেওয়া হবে তাদের জন্য "ব্যবসায়িক আত্মহত্যা"র শামিল। এই অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে মেলা আয়োজনে এতো তৎপরতা এবং এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন জাগে। প্রকাশকরা মেলা বর্জন করতে চান না, বরং তারা চান একটি সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা।

তাদের দাবি ছিল, পবিত্র রমজান ও নির্বাচনি পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করে এক প্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যেই মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূল ধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।

নতুন সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা

চিঠিতে আরও বলা হয়, একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরুতেই চায় না একুশের চেতনার মেলাটি কোনওভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। তারা বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এ শিল্পকে বাঁচাতে। প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং একটি সমাধানমূলক সিদ্ধান্ত নেবে।